২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫০

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে চায়না-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরাম অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয়ের অডি-৮০১-এ অনুষ্ঠিত ফোরামে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন  © সংগৃহীত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) চায়না-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরাম–ঢাকা ডায়ালগের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডি-৮০১-এ অনুষ্ঠিত এই ফোরামে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেছেন এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। 

২৮ জানুয়ারি (বুধবার)  এ পার্টনারশিপ ফোরামের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আরও উপস্থিত ছিলেন দৃক পিকচার লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ও চায়না–বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের বোর্ড সদস্য জনাব শহীদুল আলম, এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার, এআইইউবির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফ্যাকাল্টির উপদেষ্টা ও ডিন (আইসি) অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, উইপাওয়ার, বিএনসির চিফ এক্সিকিউটিভ সোহেল আহমেদ, দ্য ডেইলি স্টারের চিফ বিজনেস অফিসার জনাব তাজদীন হাসান, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুলের পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ফেরদৌসী।

আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়াইওয়াই ভেঞ্চার্সের চিফ অপারেটিং অফিসার জনাব ওসমান ঢালী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রডাকশন ডিরেক্টর জনাব ড্যানিয়েল আফজালুর রহমান, প্যারালাল ২ স্টেয়ার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব ফয়সাল রহমান, এবং চায়না-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের সেক্রেটারি-জেনারেল অ্যালেক্স ওয়াং। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং যুব প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। 

উদ্বোধনী বক্তব্যে এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘ বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়িয়ে এবং সহযোগিতামূলক পরিবেশ শক্তিশালী করে আমাদের চায়না ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দৃঢ় সেতু গড়ে তুলতে হবে, যেন এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ খুলে দেয়। এনএসইউ চায়নার সঙ্গে দৃঢ় শিক্ষাগত অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এখানে রয়েছে, যা আমাদের শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রচেষ্টার প্রতিফলন।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের চাহিদা মেটাতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। চীন বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের প্রধান সরবরাহকারীর মধ্যে একটি। এটি বাংলাদেশের জন্য চীনের সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।’
 
শহীদুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চায়নার মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের কেবল উদযাপন বা অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আমাদের প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত দক্ষতা, যা তথ্য ভাগাভাগি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্বাস্থ্যকর সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।’

সম্মানিত উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘সাংস্কৃতি দুই দেশের সম্পর্ক গড়ার অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। তবে আমরা এখনও আমাদের সেরা সাংস্কৃতিক সম্পদ যথাযথভাবে বিনিময় করতে পারিনি। সঙ্গীত, খাবার, চলচ্চিত্র এবং অন্যান্য সৃজনশীল শিল্পের বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারি এবং এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারি।’

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘জিওপলিটিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে, একে অপরকে বোঝা চায়না ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে জ্ঞান সৃষ্টির ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগগুলোকে কাজে লাগানো উচিত। শিক্ষাগত সহযোগিতা এই অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

এআইইউবির অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শক্তিশালী অংশীদারিত্ব কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না, এটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিনিময় এবং পারস্পরিক সম্মানের ওপরও ভিত্তি করে তৈরি হয়। বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষাগত উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা, জ্ঞান ভাগাভাগি এবং বাংলাদেশ-চায়না সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’

ফোরামের শেষ অংশে একটি প্যানেল আলোচনায় বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় হয়। সেশন পরিচালনা করেন চায়না-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের সেক্রেটারি-জেনারেল অ্যালেক্স ওয়াং।