২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:০৩

সমাবর্তনের সামনে শিক্ষার্থীরা, পেছনে শিক্ষকরা— অনন্য সিদ্ধান্তে প্রশংসায় ভাসছেন ড্যাফোডিল উপাচার্য

অধ্যাপক ড. এম আর কবির  © সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান ও অগ্রাধিকারের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে পেছনে বসবে তাঁদের শিক্ষকরা; এমনই এক শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আর কবির। এছাড়াও, সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমাতে এবার আসনভিত্তিক খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা আর পোহাতে হবে না।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আর কবির এক খোলা চিঠির মাধ্যমে এসব নতুন উদ্যোগের কথা জানান।

খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, ‘প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, এই কনভোকেশনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয় করে তুলতে আমরা দুটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। একটি হলো খাবার পরিবেশনে অধিকতর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, অন্যটি হলো—তোমাদের সম্মানিত শিক্ষকরা তাঁদের চেয়েও তোমাদেরকে অগ্রগামী দেখবার জন্য কনভোকেশনে সামনে তোমাদের বসিয়ে পেছনে বসবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন খাবারের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, যা অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে উঠতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি আসনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এই উদ্যোগ সফল করতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করে উপাচার্য অনুরোধ জানান,

শিক্ষার্থীরা যেন ধৈর্যসহ নিজ নিজ আসনে অবস্থান করেন এবং খাবার পরিবেশনের পূর্বেই স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে কুপন হস্তান্তর করেন। অভিভাবকরাও নিজ নিজ আসনে বসেই সম্মানের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।

উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই নতুন ব্যবস্থায় তোমরা শুধু অংশগ্রহণকারী নও—বরং দায়িত্বশীল সহযাত্রী হিসেবে আমাদের সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। ইনশাল্লাহ, সকলের সহযোগিতায় এই কনভোকেশন একটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মানিত অতিথিদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও মনোযোগী শ্রোতা হিসেবে উপস্থিতি প্রমাণ করবে ড্যাফোডিলের Art of Living ও মূল্যবোধ সত্যিই শিক্ষার্থীদের জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই অভিনব ও সম্মানজনক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবারের সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েট এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মতে, এ সিদ্ধান্ত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধে গড়া একটি আদর্শ পরিবার হিসেবে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল।