২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২০

বাবা-ছেলের দ্বন্দ্বে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উত্তেজনা, বন্ধ ঘোষণা

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) ক্যাম্পাস ও লোগো  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

রাজধানীর গাবতলিতে অবস্থিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ জানুয়ারি থেকে আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস অনলাইনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। 

গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. এস. এম. জোবায়ের এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) এর সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অনিবার্য কারণবশতঃ আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম (ক্লাস) অনলাইনে সম্পন্ন হবে এবং পূর্ব নির্ধারিত সকল পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। স্থগিত পরীক্ষাসমূহের সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।

এতে আরও বলা হয়, ভর্তি এবং হিসাব শাখার দাপ্তরিক কার্যক্রম যথারীতি চলবে। ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার থেকে পূর্বনির্ধারিত নিয়মে সকল শিক্ষা কার্যক্রম ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জানা যায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২৬ অক্টোবর পদত্যাগ করেন ইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খান। পরে এ পদে আসীন হন তার ছেলে আহমেদ ফরহাদ খান তানিম। চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মে জড়ানোর অভিযোগ উঠে। এমনকি তার নেতৃতাধীন ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন ড. মকবুল আহমেদ খান।

অন্যদিকে, চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান তানিমের দাবি- তার বাবা ইতোপূর্বে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও বিতর্কের কারণে ছাত্র আন্দোলনের মুখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করায় তিনি বৈধ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল ধরে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেছেন। তিনি নিয়ম মেনেই বোর্ড পরিচালনা করছেন।

এভাবে, বাবা-ছেলের দ্বন্দ্ব এক পর্যায়ে রূপ নেয় মামলা-মোকাদ্দমায়। এ প্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ সিভিল রিট পিটিশন নং ৪০৩৫/২৫ মামলার রায়ে ড. মকবুল আহমেদ খানকে একা ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেন। বয়সজনিত কারণে প্রয়োজনে একজন সহযোগী সঙ্গে নিতে পারবেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু তিনি সম্প্রতি বহিরাগত ক্যাডারদের দলবল নিয়ে ক্যাম্পাসে যান। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হলে, বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া, এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেজর (অব.) আমিনুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ খান তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেন। তার পেটুয়া বাহিনী দিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বলা হয় তার সঙ্গে কাজ না করলে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চরম উদ্বিগ্ন। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুই দিনের জন্য ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা করেছে।