২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৩

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে স্বরস্বতী পূজা উদযাপিত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব স্বরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে।  © টিডিস ফটো

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা আর নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব স্বরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সুর ও বিদ্যা দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পনের মধ্য দিয়ে পূজার সূচনা হয়। এরপর মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

এসময় উপদেষ্টা বলেন, স্বরস্বতী হলো বিদ্যা আর সঙ্গীতের দেবী। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন, শিক্ষার মাধ্যমে জীবন বদলানো যায়। জ্ঞান, মানবিকতা আর নৈতিকতার বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি সত্যিকারের প্রগতিশীল সমাজ গড়ে ওঠে। এই ধরনের আয়োজন সকলকে কাছে নিয়ে আসে এবং আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও শক্ত করে।

এনএসইউ’র উপ-উপাচার্য ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই আয়োজন আমাদের প্রতিষ্ঠানের বহুত্ব ও বৈচিত্র্যের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। এনএসইউ এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে ভিন্ন পটভূমি, সংস্কৃতি ও ধর্মের শিক্ষার্থীরা একত্রে শিক্ষা অর্জন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পায়।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রব খান বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করে। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের আরও আয়োজন করতে চাই।

স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস ডিন অধ্যাপক দীপক কুমার মিত্র বলেন, স্বরস্বতী জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রয়োজন একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়। এনএসইউতে তাই শিক্ষাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
 
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, স্বরস্বতী পূজার আয়োজন এনএসইউর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি বড় অংশ। তবে এবছর আয়োজনটি আরও বড় পরিসরে করা হয়েছে। এনএসইউতে শিক্ষার্থীরা অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি লালন করে, যেখানে সৌহার্দ্যের সঙ্গে মিলেমিশে জীবন যাপন করা শিখে। এভাবেই আমরা একসাথে কাজ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

সবশেষে সন্ধ্যা আরতির মধ্য দিয়ে পূজার আয়োজনের সমাপ্তি হয়। এসময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তাবৃন্দ, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।