০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৭

‘এনএসইউ গ্র্যাজুয়েটরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষা উপদেষ্টা  © টিডিসি ফটো

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, ‘আজকে শুধু তোমাদের ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়, তোমরা ভবিষ্যৎকে কী দেবে, সেটিই মুখ্য। ইতোমধ্যে দেশ ও দেশের বাইরে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে। এন‌এসইউ গ্রাজুয়েটরা বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে নেতৃতও দিচ্ছে। তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে।’

বুধবার (৭ জানুয়ারি) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম সমাবর্তনে  কনভোকেশন চেয়ার হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

অধ্যাপক আবরার বলেন, ‘নির্দলীয় ছাত্র আন্দোলন দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই সমাবর্তনে আমরা সেই ইতিহাসকে স্মরণ করি। আমরা আহত ও শহীদদের গর্বের সাথে কৃতজ্ঞতা জানাই। আন্দোলনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবিরও তার প্রাণ উৎসর্গ করেছে।’

পাবলিক-প্রাইভেট বিভক্তির মধ্যেও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এন‌এস‌ইউ বাংলাদেশের প্রধান সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। আমরা একটি বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আছি। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার খরচের কারণে বহু তরুণ পড়ালেখা এগিয়ে নিতে পারে না। এক্সেস বিস্তৃত করতে পারলে ইন্টেলিজেন্স আরও বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি তোমার শিক্ষা শুধু তোমার উন্নয়নে কাজে আসে, তাহলে এটি আসলে ব্যবহৃতই হয়নি। তোমরা সমাজকে এগিয়ে নেবে। তোমাদের ডিগ্রি তোমাদের সুযোগ দিয়েছে।’

সমাবর্তনে এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, আমরা এক বছরে কিউএস র‍্যাংকিংয়ে আগের থেকে ১০০তে জাম্প করেছি। ১৫ মাসে বিশ্বের প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ফ্যাকাল্টি মেম্বার এন‌এস‌ইউতে এসেছেন।’

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ‘আমি যখন তোমাদের মত তরুণ ছিলাম, আমার মনে হয়, তোমাদের মত মেধাবী ছিলাম না। তোমরা জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও সড়কে নেমে এসেছে। তোমাদের এই মহান ত্যাগকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, শিক্ষা সমাজে ইতিবাচকতার প্রসারে ভূমিকা রাখে। চিন্তার বিষয় হচ্ছে, ঔপনিবেশিক কাল থেকে শিক্ষাব্যবস্থা এটিতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বেকারত্ব ঘোচাতে ব্যর্থ হয়েছে, একইসাথে নদী দখল ও দূষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এটি ব্যর্থ হচ্ছে। ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের মহান আত্মত্যাগের পরও আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এভাবে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।’

সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার।