১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৭

বর্ষবরণ করতে সাজছে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি

বছর ঘুরে আবার এলো বাংলা নববর্ষ। ১৪২৫’র বিদায় বার্তা ও ১৪২৬’র আগমনী বার্তা নিয়ে আগামী ১৪ এপ্রিল সারা দেশে বাঙালি ঐতিহ্যের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হবে। বাঙালির প্রাণের উৎসব এই পহেলা বৈশাখ। পুরনো দিনের সব জরা-জীর্ণতা, দুঃখ আর অপ্রাপ্তিকে ভুলে গিয়ে মঙ্গল কামনা ও নতুন আশায় নববর্ষকে বরণ করে নিতে উদগ্রীব সবাই।

সারাদেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে চলছে নববর্ষ উপলক্ষে সাজ সাজ রব। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাণের ক্যাম্পাসে বর্ষবরণ করতে প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত। যা কিছু ভুল, কষ্ট ,গ্লানি, রাগ ও অভিমান ভুলে নব আনন্দে নতুন পথচলার প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়তে আশাবাদী সকলে।

তেমনি বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণ করে নিতে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (বিজিসিটিইউবি)তেও চলছে প্রস্তুতি। পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ক্যাম্পাস থেকে সকাল ১০টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালের ক্যাম্পাসে এরই মধ্যে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ক্যাম্পাসে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় বৈশাখী মেলার জন্য স্টলের ফ্রেম ও মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য বিভিন্ন ধরণের শিল্পকর্ম তৈরী করা হচ্ছে । একদল শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিল্পকর্ম দিয়ে স্টল সাজাতে ব্যস্ত। আরেক দল শিক্ষার্থী ‘এসো হে বৈশাখ, এসো হে এসো’ গানের সুরে বৈশাখকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী গান, নাচ, নাটিকা, আবৃত্তি পরিবেশনের মাধ্যমে বৈশাখ উদযাপন করবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের করিডোরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কারুকাজের আলপনা অঙ্কন করতে দেখা গেছে।

পহেলা বৈশাখের এ উৎসবের জন্য ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে কনভেনর আছেন ব্যবসায় অনুষদের সৌমেন চক্রবর্তী, মেম্বার সেক্রেটারি ডেপুটি রেজিস্ট্রার সালাউদ্দিন শাহরিয়ার, মেম্বার সহকারী রেজিস্ট্রার অজয় মজুমদার, বিবিএ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষিকা নওরীন আফরিন, ফার্মেসী ডিপার্টমেন্টের শিক্ষিকা জয়শ্রী দাস, ল' ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক মো. রিদোয়ানুল হক এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা রিনি দত্ত।

প্রসঙ্গত, বাঙালি প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ শোভাযাত্রা বাঙালি সংস্কৃতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর এই আয়োজন বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য উপাদান হয়ে ওঠে। ১৯৯৬ সালে চারুকলার এই আনন্দ শোভাযাত্রাকে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামকরণ করা হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান-বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ‘ইনটেনজিবল হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি পায় এ মঙ্গল শোভাযাত্রা।