০৪ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৪

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের স্বর্গভূমি পার্বত্য রাঙ্গামাটি

ভ্রমণে কলেজ অব ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালটি ম্যানেজমেন্ট, আইইউবিএটির শিক্ষার্থীবৃন্দ।  © এ কে মিরাজ

চাররাত-তিনদিনের সাজানো-গোছানো একটা প্ল্যান একটা ভ্রমণ পিপাসু পরিবারের প্রায় ৮০জন সদস্যের। হ্যাঁ, পরিবার। কলেজ অব ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালটি ম্যানেজমেন্ট, আইইউবিএটি। যেমন কথা তেমন কাজ। কাগজের সাজানো নিয়ম মেনেই শিক্ষা সফর শুরু বাসে করে ক্যাম্পাসের সামনে থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে। চলতে চলতে আমরা তখন মধ্য রাতের বিজ্ঞাপন বিরতিতে। হাইওয়ের হোটেলগুলোতে খাবারের স্বাভাবিক মূল্য থেকে একটু উচ্চমূল্য হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখলাম যমযম, মিয়ামি, নুরজাহানসহ নাম না জানা আরো অনেক রেস্টুরেন্টের খাবারের অধিক থেকে অধিকতর মূল্য হাতিয়ে নিচ্ছে রেস্টুরেন্ট মালিকগণ। যা ছাত্র/ছাত্রী বা সাধারণ পর্যটকদের কিছুটা আয়ত্তের বাহিরে এবং হতাশার কারণও বটে। বিষয়টা কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি পেলে আরো উন্নতি করা সম্ভবপর হবে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করে।

ঢাকা-রাঙ্গামাটি ৩১৪ কি. মি. দূরত্বের এই পথ যা, ৮-৯ ঘণ্টার বাস ভ্রমণ চলতে চলতে রাত হারিয়ে দিনের আলোতে। ক্লান্তিহীন ঘড়ির কাটা তখন নয়টা বেজে পনের মিনিটি। বাস ভেড়াল রাঙ্গামাটি সদরের রিজার্ভ বাজার হোটেল গ্রিন ক্যাসেলের নাকের ডগায়। সাময়িক এই সময়ের গন্তব্য আপাতত এখানেই।

আগেই বলে রাখি, আমাদের সফর শুধু নিজেদের উপভোগের জন্যেই ছিলো না, ছিলো নিজেদের অভিজ্ঞতা অর্জন, জ্ঞান আহরণ, দেশের কার্যকরী পর্যটন সম্পদগুলো তুলে ধরা এবং তা বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের করণীয় বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। তাইতো পরিকল্পনা অনুযায়ী সকালের নাস্তা শেষেই ছুটে চলি রাঙ্গামাটি শহরের নিজস্বতা থেকে শুরু করে বসবাসরত উপজাতি-অ-উপজাতিদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, সাংস্কৃতিকসহ তাদের রোমাঞ্চকর জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে। আইইউবিএটির ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালটি ম্যানেজমেন্টের চোখে দেখা রাঙ্গামাটির চিত্র।

রাঙ্গামাটি: লাল পাহাড়ির দেশ রাঙ্গামাটি। লাল রঙের মাটির জন্যে এই জেলার নামকরণ হয় ‘রাঙ্গামাটি’। যার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে বান্দরবন, পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি। মজার বিষয় হচ্ছে এটিই দেশের একমাত্র রিক্সা বিহীন একটি শহর। এই জেলার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের মাধ্যম হচ্ছে সিএনজি, নৌকা আর ট্রলার। অবাক হওয়া বিষয়, উঁচুনিচু এই শহরে ঘুরতে যাতায়াত ভাড়া একেবারেই কম। যেমন দূরত্ব অনুযায়ী ৫০টাকায় যেকেউ পুরো সিএনজি রিজার্ভ করতে পারবেন। স্থানীয়দের মতে এ জেলায় চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, চাক্, পাংখোয়া, লুসাই, সুজেসাওতালসহ রাখাইন এবং বাঙ্গালী মিলে প্রায় ১৪টি জনগোষ্ঠী বসবাস করে আসছে। উপজাতীয়দের অধিকাংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, কিছু সংখ্যক হিন্দু এবং খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীও রয়েছে।

অ-উপজাতীয়দের অধিকাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। পাহাড়ি উপজাতিদের বৈচিত্র্যময় জীবন ব্যবস্থা নির্ভর করে চাষাবাদ, নিজেদের তৈরিকৃত তাঁতবস্ত্র, হস্ত-শিল্প, প্রাকৃতিক মৎস্য চাষ এবং তা বাজারজাত করণের উপর। বৃক্ষ তাদের বড় সম্পদ। চাষাবাদরে মধ্যে অন্যতম আনারস, তরমুজ, কলা, ডাব, এবং লেকের পাড়ের মাছ।

রাঙ্গামাটির সৌন্দর্যের আলোকচিত্র। ছবি: এ কে মিরাজ

প্রথম দিনের শেষভাগে আমাদের পথ চলা রাঙ্গামাটির প্রধান আকর্ষণ গুলোর মধ্যে একটি ‘ঝুলন্ত ব্রিজ’। আর এই ঝুলন্ত ব্রিজে আমরা শুধুমাত্র উপভোগ করতেই নয়, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করি ‘ক্লিনিং ক্যাম্পিং’।

ঝুলন্ত ব্রিজ: এ ব্রিজ রাঙ্গামাটি ঘুরতে আসা মানুষদের প্রথম পছন্দের একটি। তাইতো ৩৩৫ ফুট লম্বা এই ব্রিজকে ‘Symbol of Rangamati’ বলা হয়। যা দাঁড়িয়ে আছে কাপ্তাই লেকের দুটি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে। যেখান থেকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় কাপ্তাই লেকের মনোরম দৃশ্য। যেমনটা আগেও বলেছিলাম, রাঙ্গামাটি ঘুরতে যাওয়া দেশি, বিদেশি পর্যটকদের জন্যে এই ব্রিজ প্রথম পছন্দের। আমরাও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। তাই আমরা বেচে নিয়েছি আমাদের, তথা পর্যটকদের সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ‘ক্লিনিং ক্যাম্পিং’। যার একটাই ম্যাসেজ ছিলো ‘LET'S KEEP OUR ENVIRONMENT CLEAN AND GREEN’ যা আমরা নিজেরা ক্লিনিংয়ের মধ্য দিয়েই এই সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করি। বলে রাখি, এটা প্রথমবার নয় শুধু। আমাদের প্রতিটা শিক্ষা সফরে এ ধরনের ক্লিনিং ক্যাম্পের আয়োজন করে থাকি। আমরা জানি, বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ থাকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সবুজ শ্যামলের রূপ।

সিম্বল অব রাঙ্গামাটি। ছবি: এ কে মিরাজ

এদিকে প্রথম দিনের, দিনের আলো ঝুলন্ত ব্রিজে হারিয়ে ফেলি। আর সময় হয়েছে তখন হোটেলে ফিরে যাওয়ার। রাতের পেট পুজো শেষে শুরু হয় আড্ডা-গানের আসর। গিটার, খঞ্জনি এবং কাহনের সাথে সুর মিলিয়ে, ক্লান্তি ভুলে মেতে উঠে নতুন আমেজে।

রাতের অন্ধকার যেতেই শুরু হয় নতুন গল্প। সকালের নাস্তা শেষে আমরা চলি ট্রলারে করে কাপ্তাই লেকের সাজানো দু’পাশে থাকা পাহাড় বাগানের মাঝ দিয়ে। চারপাশে ছোট বড় পাহাড়, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, ঝর্না আর পানির সাথে সবুজের মিতালী। মিলেমিশে প্রকৃতি যেন তার রূপে উজাড় করে দিয়েছে। তবে কৃত্রিম লেক হলেও প্রকৃতির নিদারুণ রূপ সেজেছে যেমন খুশি তেমন। যে রূপে মুগ্ধ হয়ে নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে হয়েছে বার-বার। সারাদিনে প্রায় ৯-১০ঘন্টা ট্রলার ভ্রমণে আমরা পেয়েছি কাপ্তাই লেকঘিরে থাকা দর্শনীয় স্থানগুলো।

কাপ্তাই লেক: এটি বাংলাদেশ তথা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম মানবসৃষ্ট স্বাদুপানির লেক। যার আয়তন প্রায় ১,৭২২ বর্গ কি.মি। তবে আশপাশের আরো প্রায় ৭৭৭ বর্গ কি. মি. এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। মূলত রাঙ্গামাটি জেলাতেই জলাধারটি সীমিত যার অন্তর্ভুক্ত উপজেলাসমূহ হচ্ছে রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি। লেকের উপর দিয়ে এগিয়ে চলছে ট্রলার। দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম শুভলং পাহাড়ের গা ঘেঁষেই অবস্থিত শুভলং ঝর্নায়।

শুভলং ঝর্না: শুভলং ঝর্ণা রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার মধ্যে পড়েছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, ভরা বর্ষা ছাড়া এটি দেখা যায়না। তাই আমাদের এই ঝর্নার আসল সৌন্দর্য দেখা হয়নি। শুনেছি এই ঝর্ণার নির্মল জলধারা পর্যটকদের হৃদয়ে এক ভিন্ন অনুভূতির কাঁপন তোলে। ভরা বর্ষার মৌসুমে এই ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় পর্যটকদের সযত্নে মুগ্ধ করে থাকে।

ক্লান্তিহীন পথে চলতে চলতে নজরে পড়েছে বেলে পাথরের পাহাড়-পর্বতসমূহ। যা জলতল থেকে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবার এসব পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। নজরে পড়ছে শত প্রজাতির গাছ-গাছালি, পানিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের সমাহার। নজর কেড়েছে নীল গগনে ভেসে বেড়ানো সফেদ, শুভ্র মেঘপুঞ্জের হাতছানি। প্রকৃতির সাথে হেসে-খেলে লেকের বাঁক পেরিয়ে চলে আসলাম শুভলং পাহাড় এবং পাহাড়ের গা ঘেঁষে গড়ে উঠা শুভলং বাজার।

শুভলং বাজারে একজন দর্শনার্থী স্বল্পমূল্যে কলা, আনারস, ডাব পাবে। যা ভ্রমণের মাঝে তার ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে। এরপরই ফেলে আসা পথে খুঁজে নেই টুক-টুক-ভিলেজ। যা রেস্টুরেন্টের জন্যে বিখ্যাত হলেও এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই। তাইতো, মিনিট ১০ পেরিয়ে খুঁজে নেই পেদা-টিং-টিং রেস্টুরেন্ট। যার বাংলা হচ্ছে ‘পেট টান টান’। পাহাড়ি পরিবেশে যেখানে দর্শনার্থীর দুপুরের ভোজন সেরে নেয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ। বলে রাখা ভালো, বেশি সংখ্যক মানুষ একসাথে হলে আগে থেকেই খাবার অর্ডার করে নিতে হবে। খানিকটা পথ পার করে নাম না জানা এক পাহাড়ের তীরে এসে তরী ভেড়াল। লেকের নীল পানিতে গা ভিজিয়ে নেই। এদিকে দুপুরের খাবারের জন্যে পেট হাহাকার করছিলো সবার। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চলে গেলাম চাং-পাং-রেস্টুরেন্টে। যার বাংলা হচ্ছে ‘চাই পাই’। তাদের দেয়া এসব নাম হতে পারে আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব। যাইহোক, লেকে ভেসে বেড়াতে বেড়াতে ঘড়ির কাটা তখন প্রায় ৩টা। আর দেরি না করে পাহাড়ের কোলে লেপ্টে বসে পাহাড়িদের খাবারে দুপুরের পেট পুঁজো করি। যার ডানে-বামে চোখ ফেললেই দেখা মিলবে পাহাড় আর মন মুগ্ধকর নীল জলরাশির লেক। খাবারের মান এবং স্বাদ এককথায় অসাধারণ। দশে দশ দিতে বিচারক বাধ্য হবে। খাওয়া শেষে আবারো যাত্রা শুরু। সেদিনের শেষ পলকে ছিলো রাজবন বিহার।

রাজবন বিহার: বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই বিহার শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সেখানে প্রবেশাধিকার থাকলেও তা বর্তমানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্যে স্থগিত রয়েছে। যেখানে দেখা যাবে স্বর্গীয় সিড়ি। এছাড়াও আছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় মূর্তি। যে জিনিসটি বিশেষ দ্রষ্টব্যজনক সেটি হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মগুরু শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে)’র মৃতদেহ। এটি তাদের অনুসারী ভক্তদের দেখার জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই আমরা ফিরে যাই আমাদের রাঙ্গামাটির অস্থায়ী গন্তব্যে। হোটেলে ফিরেই শুরু হয় রাতের ভোজন। বার্বিকিউ ডিনার শেষে জমে উঠে আবার আগের রাতের আড্ডা গানে। তবে এ রাতের মূল আকর্ষণ ছিলো র‍্যাফেল ড্র, জন্মদিনের সেলিব্রেশন এবং বোনাস হিসেবে পাই স্যারের রোবটিক্স ডান্স। যা সবাইকে আরো ফুরফুরে করে দেয়।

এখানেই শেষ নয়! ভ্রমণের ধারাবাহিকতায় আরো রয়েছে...

জীবন ব্যবস্থা: স্বল্প সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলছি পারি, স্থানীয় মানুষগুলো অনেকটাই সহনশীল এবং বন্ধুত্বসুলভ। এটা শুধু পর্যটকদের সাথেই নয়, তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে। কেননা, তারা বিশ্বাসী ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। যার বড় প্রমাণ হচ্ছে, তাদের ধর্মীয় থেকে শুরু করে ঐতিহ্যগত সকল উৎসবে সব ধর্মের মানুষদের উৎসবমুখর উপস্থিতির কথা আমরা শুনেছি। তাদের সাংস্কৃতিক জীবন বলতে গেলে মুসলমানদের ঈদ উৎসব ছাড়া অন্যান্যদের উৎসব গুলো একটু ভিন্ন হয়ে থাকে।

পহেলা বৈশাখ/সাংগ্রাই উৎসব/বিজু: আদিবাসীরা পুরোন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এই উৎসবকে তাদের মতো করে রঙিন করে তোলে। যা অন্যদের তুলনায় ভিন্নরকম হয়ে থাকে। মারমারা এই উৎসবকে বলে থাকে ‘বিজু’। মেলার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবকে আরো উপভোগ্য করে রাখে৷ এই মেলার ঐতিহ্যবাহী একটা অধ্যায় হচ্ছে পানি খেলা। এই খেলার মধ্য দিয়ে তাঁরা বিশ্বাস করে তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানিদিয়ে ভিজিয়ে সব অকল্যাণ আর অশুভ শক্তিকে দূর করে। বিরল এই উৎসবে দেশি বিদেশি পর্যটকরাও উপভোগ করতে ভিড় জমায়। জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসব হয়ে থাকে এক মিলনমেলা।

বনভন্তের জন্মদিন: পরম পূজ্যষ্পদ আর্য্যপুরুষ শ্রাবক বুদ্ধ শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তে হলেন বৌদ্ধদের ধর্মগুরু। যার জন্মদিন উপলক্ষে মেলা হয়ে থাকে। জন্ম তারিখ: ২৫শে পৌষ, ১৩২৮ বাংলা বৃহস্পতিবার, ৮ই জানুয়ারি ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ। ধর্মগুরুর জন্মদিনে তাঁরা নেকপূণের পরিমাপ করতে একটা প্রতিযোগিতা করে থাকে। সাধারণত সাবালক হলেই ছেলে মেয়েরা এই খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাঁচা মাল দিয়ে একটা পোশাক তৈরি করে যে সবার আগে ধর্মগুরুকে দিতে পারবে সেই পূণ্যতা লাভ করে থাকে।

খাবার: রাঙ্গামাটি শহরের দামি রেস্টুরেন্ট গুলোতে খাবারের মূল্য স্বাভাবিক। আর আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে হতে আপনাকে আগে থেকেই অর্ডার করে রাখতে হবে। তবে দামও তেমন একটা বেশি নয়। যেমন- দুপুরের খাবারে ২০০ টাকার একটা প্যাকেজে আপনি পাবেন। কলা ভর্তা, রুই মাছ, ব্যাম্বো চিকেন, কাচকি মাছ ফ্রাই, চাপিলা মাছের ভর্তা আর ডাল-ভাত তো আছেই। এখানে আসলে অবশ্যই ভ্রমণকারী যেন নাস্তার মেনুতে চাকমাদের হাতে বানানো কেক নিতে ভুলবেন না করে৷

যথারীতি আমরা পৌঁছে যাই ৩য় দিনে। সকালে নাস্তা শেষে শুরু হয় এই ট্রিপের বহুল কাঙ্ক্ষিত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ভক্তদের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়, রাঙ্গামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত প্রাচীন কোর্ট ভবন স্টেডিয়ামে। হারতে হারতে ম্যাচের ফলাফল ড্র করে ব্রাজিলিয়ানরা বুকভরা খুশি মনে হোটেলে ফেরেন। দুপুর পেরুতেই আবারো সেই ট্রলার ভ্রমণে কাপ্তাই লেক হয়ে আমরা যাই আরন্যক রিসোর্টে। যার সৌন্দর্য বিকেলটাকে করে তুলেছে অসাধারণ। লেক ভিউর সাথে আছে সুমিং পুলের সুবিধা, বোট রাইড এবং দুর্দান্ত নির্মাণশৈলী নজর কেড়েছে অনায়াসে।

দেশের পর্যটনশিল্পের একবড় সম্পদ এই রাঙ্গামাটি। রাঙ্গামাটি এমন একটা পর্যটনকেন্দ্র যেটা সারাবছর পর্যটকদের পিপাসা মেটাতে সক্ষমতা রাখে। যা বর্তমান পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী নদী-লেক, পাহাড়, ঝর্না এবং আদিবাসীদের জীবন-সংগ্রামসহ তাদের সংস্কৃতি ও সংস্কৃতির এক পরিপূর্ণ লীলাভূমি। তবে হ্যাঁ, রাঙ্গামাটির ষোলকলা পূর্ণ পেতে হলে অবশ্যই একজন ভ্রমণপ্রেমীকে ভরা বর্ষায় যেতে হবে। তবে, অন্য সময় গুলোতে গেলেও কেউ হতাশ হবে না এটা জোর গলায় বলা যায়। আমরা মনে করি, আমাদের পর্যটন কর্তৃপক্ষের বিশেষ পরিচর্চা এবং উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে এই রাঙ্গামাটি দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে। যা দেশি বিদেশী পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ গুলোর একটি হবে।

আব্দুল কাদের মিরাজ
শিক্ষার্থী,
কলেজ অব ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টি, আইইউবিএটি