মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অবঃ) মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ বীর প্রতীক’র ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী
আইইউবিএটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও বোর্ড অব গভর্নরস’র সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অবঃ) মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ বীরপ্রতীক এর ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ডটেকনোলজি’তে (আইইউবিএটি) রবিবার বিকাল ৪টায় এক দোয়া-মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের, উপ উপাচার্য রেজিষ্ট্রার, ডিপার্টমেন্টের চেয়ার, ডাইরেক্টর, কো-অর্ডিনেটর,শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
উল্লেখ্য কর্নেল (অবঃ) মোঃ সফিকউল্লাহ ৩১ মার্চ ২০০৮ সালে মৃত্যু বরণ করেন। আইইউবিএটি তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।
মরহুম কর্নেল সফিকউল্লাহ ১৯৪১ সালের ২৬ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার অন্তর্গত কৈলাইন গ্রামের একসম্ভ্রান্ত মুসলিম আলেম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমএ পাশ করার পর ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই তিনি রণাঙ্গনে ৮নং সেক্টর কোম্পানি সহ ৫নং গেরিলা ইউনিটের কমাণ্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে সাফল্য ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য যুদ্ধকালীন সময়ে তাকে ক্যাপ্টেন হিসাবে ফিল্ড কমিশন দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তুমুল সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য যুদ্ধাহত অফিসার হিসাবে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়।
স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সেনাসদর, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী, ২৪ পদাতিক ডিভিশন, আর্মি স্কুল অব এডুকেশন এন্ড এডমিনিস্ট্রেশন’র মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পরআইইউবিএটি’তে ট্রেজারার পদে প্রায় ১৩ বৎসর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা একাডেমীসহ বিভিন্ন বিদ্বতসংঘের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের উপর বেশ কিছু বই লিখেন। তার মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে বাংলার নারী, একাত্তরের রণাঙ্গন, গেরিলা যুদ্ধ ও হেমায়েত বাহিনী, মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে নৌকমাণ্ড ও মুক্তিযুদ্ধে ৮নং সেক্টর।
--