জুলুমমুক্ত অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে ইউআইইউ-তে নতুন ইনস্টিটিউট
- টিডিসি রিপোর্ট
- প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৫, ০২:৪৭ PM , আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৫, ০৮:২৯ PM

মুসলিম বিশ্বে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইসলামিক ভাগ প্রায় এক তৃতীয়াংশ। নিরাপত্তা এবং অনেক ক্ষেত্রে লাভজনক হওয়ায় জীবন পরিচালনার অন্যান্য ক্ষেত্র তথা ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় এবং লেনদেনের ক্ষেত্রেও ইসলামের অনুশাসনমতে চলছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলামী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দেশে বেশকিছু ইসলামী ব্যাংক গড়ে উঠলেও পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলাম মানার ক্ষেত্রে তাদের নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। আবার এসব ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কর্মীদের যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা নিশ্চিতেও দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে। সামগ্রিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রথমবারের মত একগুচ্ছ সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যলয়টি ‘ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ব্যাংকিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনোমিকস’ (IIBFE) নামে নতুন একটি ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে যার মাধ্যমে একাডেমিক ডিগ্রী (ব্যাচেলর্স, মাষ্টার্স), ডিপ্লোমা এবং সার্টিফিকেট পর্যায়ের প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন চালু করা হবে, যার প্রাসঙ্গিক অনুমোদনপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুককে প্রধান করে নতুন এ ইনস্টিটিউট চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অধ্যাপক ফারুক একজন উন্নয়ন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ এবং বাহরাইনে দীর্ঘ সময় ইসলামী ফাইন্যান্স ফিল্ডে শিক্ষকতা, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, মানুষের অর্থনৈতিক লেনদেনকে ইসলামের মূল্যবোধ, নীতিমালা ও বিধান অনুযায়ী পরিচালনায় ইসলামী ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স ইন্ডাষ্ট্রির সুষম প্রসার ও বিকাশে মূল্যবান সহযোগী হবে নতুন এই উদ্যোগ। যার উদ্দেশ্য থাকবে ইসলামী নীতিমালার কাঠামোতে প্রাসঙ্গিক হালাল-হারাম মেনে যা কিছু হারাম তা বর্জন এবং তার পরিবর্তে হালালভিত্তিক ইসলামী অর্থনৈতিক কাঠামো দৃঢ় করতে দক্ষ জনবল তৈরি করা।
বাংলাদেশে মানুষের মাঝে ইসলামিক ফাইন্যান্স সংক্রান্ত ধারণা থাকলেও এর অ্যাকাডেমিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শিক্ষা কার্যক্রমের মৌলিক ঘাটতি রয়েছে। যেসব দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ফাইন্যান্স শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে (যেমন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাহরাইন) তাদের সফলতার অন্যতম দিক দিক হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগের অংশ হিসেবে সব ধরণের একাডেমিক কার্যক্রম যার মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রি দক্ষ জনবলের দিক থেকে উপযুক্ত সহযোগীতা পেতে পারে— অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
উদ্যোগটি সম্পর্কে জানতে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুকের মুখোমুখি হয়েছে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস; যাতে গল্পে-আলাপে উঠে এসেছেন নবগঠিত ইনস্টিটিউটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যত ভাবনা সংক্রান্ত নানা দিক।
ড. ফারুক জানান, বাংলাদেশে মানুষের মাঝে ইসলামিক ফাইন্যান্স সংক্রান্ত ধারণা থাকলেও এর অ্যাকাডেমিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শিক্ষা কার্যক্রমের মৌলিক ঘাটতি রয়েছে। যেসব দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ফাইন্যান্স শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে (যেমন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাহরাইন) তাদের সফলতার অন্যতম দিক দিক হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগের অংশ হিসেবে সব ধরণের একাডেমিক কার্যক্রম যার মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রি দক্ষ জনবলের দিক থেকে উপযুক্ত সহযোগীতা পেতে পারে। মালয়েশিয়াতে শুধু ইসলামী ফাইন্যান্সকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে।
ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ব্যাংকিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনোমিকসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। মূলত এসব বিষয়কে আমলে নিয়েই ইউআইইউ সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স সংক্রান্ত বিশ্বমানের একাডেমিক ডিগ্রী প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ শুরু করেছে; যার প্রথম পদক্ষেপ ‘ইসলামিক ফাইন্যান্স’ বিষয়ে প্রফেশনাল মাস্টার্স চালুর সিদ্ধান্ত। প্রথাগত ব্যাংকিং ধারণার বাইরে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরী বা capacity building-এর জন্য বিশ্বমানের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং আনুসঙ্গিক পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাবে বলে জানান ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ব্যাংকিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনোমিকস-এর প্রতিষ্ঠাতা ডিরেক্টর।
আমরা যে ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টর দেখছি; এটার সঙ্গে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাতে আরো বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তনের অবকাশ রয়েছে আর এ ধরণের ঘাটতির কারণেই অনেকে প্রশ্ন তুলেন যে প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকিং কতটা শরীয়াহ সম্মত? এ ধরণের বিভ্রান্তি বা সংশয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে এই যে, আমাদের নিজেদের কারণে চলমান ইসলামী ব্যাংকিং বেশ কিছুটা সংকীর্ণ হয়ে গেছে—অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী ইসলামি ব্যাংকিংয়ে আর্থিক লেনদেন করতে আগ্রহী। তবে বিশেষ কিছু ব্যংকের পাশাপাশি প্রায় সবগুলো কনভেনশনাল ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান থাকলেও একটি মাত্র বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত কার্যক্রম ছাড়া দেশের কোনো প্রাইভেট কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সংক্রান্ত কোনো ডিগ্রি প্রদান করা হয় না। ফলে যারা এই সেক্টরে কর্মরত রয়েছেন; তারাও অনেক ক্ষেত্রেই কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই কাজ করেন।
গুণী এই অধ্যাপক আরও বলেন, আমরা শুরুতে প্রফেশনাল ডিগ্রি প্রদানের বিষয়টিই ভাবছি; সঙ্গে আনুষঙ্গিক আরও কিছু কাজ হবে। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়টি যথাশীঘ্র সম্ভব ইউজিসি থেকে এ সংক্রান্ত ডিগ্রির অুনমোদন নিতে চায় ইউআইইউ। কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট এবং কোর্স নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, আমরা চাই সংশ্লিষ্ট স্তরে একদল দক্ষ জনবল তৈরি হোক। যারা সুষ্ঠ ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টরকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে চায়; সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমরা সেই সব ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কোর্স ডিজাইন হচ্ছে। আশা করছি একাডেমি-ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে নিবিড় যোগসূত্র তৈরির মাধ্যমে ইনস্টিটিউটটি এগিয়ে যাবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ড. ফারুক বলেন, ব্যাংকিং-এর ওপর ফোকাস করে আরো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, তবে এই ইনস্টিটিটিউট অর্থনীতির বৃহত্তর পরিসরের দিকগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। তাই ইউআইইউ'র এই উদ্যোগের স্বকীয়তার মধ্যে থাকবে শুধু একাডেমিক বা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নয়, বরং ইকোনমিক ডাইমেনশনের অংশ হিসেবে দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ রক্ষা, প্রযুক্তির উৎকর্ষতাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সমস্যা বা চ্যালেঞ্জগুলোর ওপরেও কাজ করবে এবং এ ব্যাপারেও ইন্ডাষ্ট্রি এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার প্রয়াস চালাবে।
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ইতিহাস টেনে এই অধ্যাপক বলেন, গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়, যার বৃহত্তর লক্ষ্য ছিলো সমগ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকেই ইসলামের আলোকে ঢেলে সাজানো। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে সেটা ফলপ্রসূ হয়নি। রাষ্ট্রীয় বা সামষ্টিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইসলামের আলোকে সাজানোতে ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পর ফোকাসটা চলে যায় ইসলামী ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্সের দিকে। মুসলিমরা সবসময় হারামের বিকল্প গ্রহণ করতে আগ্রহী, কিন্তু ইসলামের পূর্ণাঙ্গতার ধারণা সম্পর্কে বিভ্রান্তি এবং উদাসীনতার কারণে অবশেষে দ্বৈত ব্যাংকিং সিস্টেম চালু হয়, যেখানে ইসলামী এবং প্রথাগত দুই রকমের ব্যাংকিং-ই চালু আছে। তবে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা লাভজনক হওয়ায় প্রথাগত ফাইন্যান্সের পাশাপাশি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
চলমান ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পুরো ইসলামি মানতে নারাজি এই অধ্যাপক মত দেন, আমরা যে ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টর দেখছি; এটার সঙ্গে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাতে আরো বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তনের অবকাশ রয়েছে আর এ ধরণের ঘাটতির কারণেই অনেকে প্রশ্ন তুলেন যে প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকিং কতটা শরীয়াহ সম্মত? এ ধরণের বিভ্রান্তি বা সংশয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে এই যে, আমাদের নিজেদের কারণে চলমান ইসলামী ব্যাংকিং বেশ কিছুটা সংকীর্ণ হয়ে গেছে।
তিনি যোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক প্রভাবটা সুস্পষ্ট নয়। যার ফলে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার তেমন কোনো পার্থক্য অনেক মানুষের কাছেই পরিষ্কার না। আমরা এই জায়গাটিতেও কাজ করতে চাই। আমরা চাই, সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইসলামী ব্যাংকিং কীভাবে সম্পৃক্ততা রাখে সেটাকে আলোচনায় নিয়ে আসা এবং গবেষণাভিত্তিক বাস্তব সমাধান বের করা। দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ইনস্টিটিউট থেকে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে ইসলামী ব্যাংকিং কীভাবে ভূমিকা পালন করবে, সে বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা থাকবে, যার মাধ্যমে এই ইন্সটিটিউট পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারবে।
ইসলামী ব্যাংকিং কিংবা কনভেনশনাল ব্যাংকিং কাঠামোতে অর্থনৈতিক সামঞ্জস্যতা রক্ষায় দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দরিদ্রদের অর্থ কুক্ষিগত হয়। অপরদিকে ধনীদের অর্থ আরো বেড়ে যায়া। এটার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। কারণ গরীবদের থেকে সংগৃহীত ডিপোজিট থেকে মূলত সুবিধা পাচ্ছে ধনীরা। আমি মনে করি, এখানে নতুন নতুন অনেক চিন্তা ভাবনার সুযোগ আছে। সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব থাকা জরুরি।
নান্দনিক ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসে ইউআইইউ শিক্ষার্থীরা
তিনি আরো বলেন, আমাদের বৃত্তের বাইরে দাঁড়িয়ে চিন্তা করতে জানতে হবে। সেই চিন্তাকে যৌক্তিক কাঠামো অনুযায়ী বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসার হওয়াও জরুরি। বর্তমানে আমাদের যতগুলো ইসলামী ব্যাংক আছে, তাদের কর্মীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ইউআইইউ'র এই ইনস্টিটিউট থেকে তারাও ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ পাবেন। ইউআইইউ শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরবর্তীতে এই বৈশ্বিক মানের শিক্ষার বিকাশের সাথে সাথে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ভুমিকা পালন করবে বলে জানান অধ্যাপক ওমর ফারুক।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামী অর্থনীতি কেমন প্রভাব রাখবে সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে যথাশীঘ্র এই ইনস্টিটিউটটি একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে চায়। তিনি আরো যোগ করেন, স্বাভাবিকভাবে এই মাষ্টার্স ডিগ্রির সময় ২ বছরের হতে পারে। তবে যারা ব্যাংকিং নিয়ে ইতোপূর্বে ডিগ্রি নিয়েছেন; তাদের ক্ষেত্রে এই সময় ১ থেকে দেড় বছরের মধ্যে হয়ে যাবে বলে মনে করেন এই অধ্যাপক। একটি সমৃদ্ধ ও গতিশীল অর্থনীতি গড়তে ইসলামী চিন্তাধারা ও গবেষণার আলোকে নতুন নতুন কার্যক্রম ইসলামী ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্সের খাতকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত দিক থেকে শক্তিশালী করবে। এ ব্যাপারে ইন্ডাষ্ট্রির যথাযথ ও পর্যাপ্ত সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে এই ইন্সটিটিউট মূল্যবান ভূমিকা রাখবে।