২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:৫৭

সিন্ডিকেটের সভা হয়নি ১৭ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে

লোগো  © ফাইল ছবি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীর ফি নির্ধারণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় সিন্ডিকেট সভায়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১৮ ধারায় এর গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভা করছে না।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ ৪৯তম বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২২ সালে সিন্ডিকেটের কোনো সভা করেনি। 

সিন্ডিকেটের সভা না হওয়াকে আইনের লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন ইউজিসি সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বছরে কতগুলো সিন্ডিকেট সভা করতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেউ আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলিম দাদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট নিয়ে কাজ চলছে। আজ বন্ধের দিন তাই এ বিষয়ে কথা বলতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে আমি খোঁজ নেব।’

জানা গেছে, প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সিন্ডকেট করতে হবে। সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হবেন সিন্ডিকেটের সভাপতি, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, উপাচার্য মনোনীত একাডেমি কাউন্সিলের ডিন বা বিভাগীয় প্রধান, একজন শিক্ষাবিদ বা শিক্ষানুরাগী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ মনোনীত তিনজন, ইউজিসির মনোনীত একজন প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হবেন সিন্ডিকেটের সদস্য। এ সিন্ডিকেটের মনোনীত সদস্যরা পরবর্তী দুই বছর মেয়াদে দায়িত্বে বহাল থাকবেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সিন্ডিকেটের কার্যাবলি হিসেবে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যাবলি, প্রশাসনিক কার্যাবলি, সাধারণ ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা, অর্থ কমিটি প্রণীত বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট পর্যালোচনা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ চূড়ান্তকরণ, আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টি, সৃষ্ট পদের দায়িত্ব-কর্তব্য, চাকরির শর্তাবলি ও বেতন নির্ধারণ, শিক্ষার্থীর ফি নির্ধারণ, নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) কাছে পাঠানো এবং একাডেমি কাউন্সিলের সুপারিশক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও ফলাফল অনুমোদন করবে সিন্ডিকেট।

সিন্ডিকেটের দায়িত্ব হিসেবে রয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার সনদপত্র ও সনদপত্রের নিরাপত্তা প্রতীকের তদারকি, ও হেফাজত, শৃঙ্খলা নিশ্চিত, শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের প্রতিকার ও শাস্তির জন্য শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ বা প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত প্রদান, যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অীভযোগের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ বা প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত, একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত প্রদান, শিক্ষার্থী নিবন্ধনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব।

সিন্ডিকেট সভা হয়নি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে: ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি,  প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি,  বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,  খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, জেড এন আর এফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস, খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়, ইনটারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট এন্ড টেকনোলজি।