লিডিং ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্যের কক্ষে তালা মালিকপক্ষের

লিডিং ইউনিভার্সিটি
লিডিং ইউনিভার্সিটি  © সংগৃহীত

সিলেটের বেসরকারি লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. কাজী আজিজুল মাওলাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে তাঁর কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার তিনি অফিসের সামনেই অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শিল্পপতি রাগীব আলীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন উপাচার্য। অনিয়মের অভিযোগ তুলে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সম্প্রতি উপাচার্যকে জোর করে ছুটি দেন। তবে তা বেআইনি দাবি করে চেয়ারম্যান ও ‘ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য’কে উকিল নোটিশ দিয়েছেন উপাচার্য ড. কাজী আজিজুল মাওলা।

তবে, এ নিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষার তদারক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন উপাচার্য। আর কমিশন একে মালিকপক্ষের অরাজকতা জানিয়ে বলছে, এ বিষয়ে ইউজিসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে।

উপাচার্য গতকাল সকালে ক্যাম্পাসে গেলে তখন তাঁর কক্ষ তালাবদ্ধ দেখেন। রাগীব আলীর পুত্রবধূ সাদিকা জান্নাতের নির্দেশে আইন বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সময় কিছু বহিরাগত শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শিল্পপতি রাগীব আলী গত ১৬ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, গত দুই বছরে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে তাঁর অনুপস্থিতি মোট কর্মদিবসের ৫০ শতাংশের বেশিতে পৌঁছেছে। এছাড়াও ওই চিঠিতে তাঁকে উপাচার্য পদ থেকে আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের জন্য অবৈতনিক ছুটি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন রাগীব আলী। পরে ট্রেজারার বনমালী ভৌমিককে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরপর চিঠির জবাবে উপাচার্য জানিয়েছেন, উপাচার্যের প্রধান দায়িত্ব হলো অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সমন্বয় সাধন করা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করা। তিনি সেটাই করেছেন। বেশিরভাগ কর্মদিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও ক্যাম্পাসে থেকেছেন। তাই ৫০ শতাংশ কর্মদিবসে অনুপস্থিতির অভিযোগ তথ্যভিত্তিক নয়। তাঁর সর্বশেষ ছুটি অনুমোদিত ছিল। বাস কিনতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উড়িয়ে দেন তিনি।

উপাচার্য আজিজুল মাওলা দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। বিভিন্ন সময় নিয়ম না মেনে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন উপাচার্য। ফলে এসব অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাগীব আলীকে অনুরোধ করেন উপাচার্য। এ নিয়ে ট্রেজারার বনমালীর সঙ্গে উপাচার্যের দূরত্ব তৈরি হয়।

উপাচার্য আজিজুল মাওলা দেশের একজন নামকরা স্থপতি। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক। ২০২১ সালে তিনি বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পান। আইন অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ রয়েছে।

ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনের বলছে, ২০০১ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার রাগীব নগরে স্থাপিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৬২৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি বিভাগে ১৭টি কোর্স/প্রোগ্রাম চালু আছে। স্থায়ী ও খণ্ডকালীন শিক্ষক আছেন ১১৭ জন। 


সর্বশেষ সংবাদ