ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে ১৪১ স্কুলশিক্ষার্থী

ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে ১৪১ স্কুলশিক্ষার্থী
আতঙ্কের মধ্যেই ১৪১ শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঠদান চলছে বিদ্যালয়টিতে  © সংগৃহীত

ছাদের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে রড। বৃষ্টি হলেই সেই ছাদ দিয়ে চুইয়ে পড়ে পানি। দেয়ালেও দেখা দিয়েছে ফাটল। এই আতঙ্কের মধ্যেই ১৪১ শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঠদান চলছে নওগাঁর জালম মাগুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।  
 
স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার কীর্তিপুর ইউনিয়নের এই বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে ৩১ বছর আগে। এর মাঝে বেশ কয়েকবার ভবনটি মেরামত করা হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্লাস করতে অসুবিধা হওয়ার কারণে দিন দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টি পাঠদান উপযোগী করতে দ্রুত সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির ছাদ থেকে কয়েকবার পলেস্তারা খসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ভবনটি দুর্বল হওয়ার কারণে বৃষ্টি হলেই ভয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চায় না।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রাব্বি হোসেন বলেন, আমাদের স্কুলটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মা-বাবা আমাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পায়। আমাদেরও স্কুলে আসতে ভয় লাগে। স্কুলের ফ্যান চলালে মনে হয় যেন পুরো বিল্ডিং কাঁপছে।

ছাত্রী নাজমি খাতুন ও নাহিদা খাতুনও জানালেন একই কথা। তারা বলেন, দেয়ালগুলো ফেটে আছে। মনে হয় কখন যেন ভেঙে পড়বে। ঝড়-বৃষ্টি আসলে আমাদের খুব ভয় লাগে।

জালম মাগুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. জুলেখা বেগম জানান, কয়েকবার স্কুলের ভবন মেরামত করা হয়েছে। তারপরও ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। বিদ্যালয়ের জানালা-দরজাগুলোও দুর্বল। বাচ্চাদের নিয়ে তাই আতঙ্কের ভিতরে ক্লাস করতে হয়।

অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, দিনে দিনে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। ভবনের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। বিদ্যালয়টি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, সংস্কারের জন্য সাত লাখ টাকার একটি চাহিদা পত্র পাঠিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আশা করি সেই বরাদ্দের অনুমোদন পাওয়ায় গেলে বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো দূর করা সম্ভব হবে।

এই শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে বলবো। উপজেলা প্রকৌশলীর মতামতের প্রেক্ষিতে ছাদের উপরে জলছাদ ঢালাই এর মাধ্যমে ছাদের সমস্যা দূর হতে পারে। আর প্রকৌশলী পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বললে নতুন ভবনের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ