স্কুলে খিচুড়ি পরিবেশনের প্রস্তাব স্থগিত

স্কুলে খিচুড়ি পরিবেশনের প্রস্তাব স্থগিত
  © প্রতীকী ছবি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার হিসেবে শুধু খিচুড়ি পরিবেশনের প্রস্তাব স্থগিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, রুটি, কলা, বিস্কুট, দুধ ও ভাতের পাশাপাশি সপ্তাহে কোনো একদিন খিচুড়িও দেওয়া যেতে পারে। 

কিন্তু প্রকল্প প্রস্তাবে স্কুলে খিচুড়ি রান্না নিয়ে মহা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এতে খুদে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মূল কাজ ব্যাহত হবে। এ বিবেচনায় প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। পরে বাস্তবসম্মত প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১ জুন) একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত হন তিনি। শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনা এবং অনুমোদিত প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বৈঠকে উত্থাপিত ‘প্রাইমারি স্কুল মিল’ শিরোনামে প্রকল্প বাদে বাকি ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সাতটি নতুন এবং বাকি দুটি সংশোধনী। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ২৪০ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রাইমারি স্কুল মিল প্রকল্পটির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী। তবে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এ কারণে প্রকল্পটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, এ ধরনের সামাজিক কর্মসূচি স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে করতে হবে। তাদেরও অংশগ্রহণ থাকবে। স্থানীয় বিত্তবানদের কেউ কেউ আর্থিক সহায়তা দিয়েও এতে অংশ নিতে পারেন। তা না করে প্যাকেটে খিচুড়ি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করেননি। তবে প্রকল্পটি একেবারে বাতিল করে দেওয়া হয়নি। নতুন করে পর্যাপ্ত পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত কার্যক্রমের মাধ্যমে পরে হাতে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, পাঁচ বছর মেয়াদে সারাদেশে এক কোটি ৪৮ লাখ শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন খিচুড়ি ও এক দিন বিস্কুট খাওয়ানোর প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ১৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। প্রস্তাবে এনজিও নিয়োগ, খাদ্যগুদাম ভাড়া, খিচুড়ি বিতরণে ঠিকাদার নিয়োগ ও হাঁড়ি-পাতিল কেনাকাটা করার কথা বলা হয়েছে। খিচুড়ির উপকরণ কিনে গুদামে সংরক্ষণের কথাও বলা হয়। 

একনেক বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, একনেকে এ ধরনের আয়োজন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অনেক মন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে প্রকল্প প্রস্তাবে খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের প্রস্তাব নিয়ে মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে প্রস্তাব থেকে তা বাদ দেওয়া হয়।

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য নির্দেশনা সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্র পেতে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রস্তাব পাওয়ার পর নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যেই মতামত দিতে হবে পরিবেশ অধিদপ্তরকে। ওই তারিখ পার হয়ে গেলে পরিবেশ ছাড় প্রদানে অধিদপ্তরের সম্মতি রয়েছে বলেই ধরে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, একটি গাছ কাটলে আরও একটি গাছ লাগানো এবং প্রাকৃতিক জলাধারের প্রবাহ ঠিক রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ