মুখোমুখি আ.লীগ-বিএনপি— কী ভাবছে সাধারণ মানুষ
শেষ হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এখন চলছে ভোট গণনা। বিভিন্ন কেন্দ্রের সবশেষ পাওয়া তথ্যে এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের দুই মেয়র প্রার্থী। এদিকে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আগামীকাল রোববার হরতাল ডেকেছে বিএনপি। অন্যদিকে যেকোন মূল্যে হরতাল প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের মুখোমুখি অবস্থানে দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ইতোমধ্যেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। তারা বলছেন দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চার অভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দুই দলের যে সমস্যা তা সমাধান করুক। সাধারণ মানুষের ক্ষতি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে এক বছরেরও বেশি সময় পর বড় ধরনের কোন কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। সবশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে হরতাল ডেকেছিল দলটি। ২০১৪ সালের পর থেকে রাজনৈতিকভাবে প্রায় ঝিমিয়ে পড়া দলটির এমন কর্মসূচিতে নড়েচড়ে বসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
হরতাল প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ব্যর্থতা ঢাকতেই অগণতান্ত্রিক হরতাল আহ্বান করেছে বিএনপি। নিশ্চিত পরাজয় জেনেই তড়িঘড়ি করে হরতাল ডেকেছে তারা। তবে জনবিরোধী যে কোনো কর্মসূচিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগরে এমন ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের অনেকেই রয়েছেন আতঙ্কের মধ্যে। দুই দলের এমন মুখোমুখি অবস্থানে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা। কাওরান বাজারের মুদি দোকানদার মো. আনোয়ার মিয়া বলেন, আজকে নির্বাচনের জন্য মানুষের আনাগোন একেবারেই নেই। বেচাকেনা হয় নাই। শুনলাম কাল নাকি হরতাল। কালও যদি মানুষ না থাকে তাহলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বলেন, দেশে সুস্থ গণতন্ত্র চর্চার অভাব। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে ঠিকই, তবে দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার হারিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর দেখলেই তা খুব ভালভাবে বোঝা যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি হরতাল দিয়ে ভালই করেছে। তবে তারা এই হরতাল ঠিক ভাবে পালন করতে পারবে না। কারণ আওয়ামী লীগ হরতাল প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। আমরা আতঙ্কিত। কারণ যে যেটাই করুক, ফলাফল সাধারণ মানুষকেই ভোগ করতে হয়।
কলাবাগানের বাসিন্দা ইলিয়াস শান্ত জানান, কাল থেকে ক্লাস শুরু হবে। হরতালের কারণে ক্লাস করতে পারবো কি না জানিনা। এর আগে হরতালে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া দেখেছি। তাই কাল আর বের হব না ভাবছি।
বিএনপি হরতাল ডাকলেও কাল বাস চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বাস মালিক সমিতি। পরিবহন মালিক সমিতির নেতা এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘এই হরতাল আমরা মানি না, হরতালে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।’