০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৫১

সাবেক নেতাদের পরিচয় পর্বেও নেই শোভন-রাব্বানীর নাম

  © ফাইল ফটো

দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয় শনিবার। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর এবার সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পরিচয় পর্বেও নাম নেয়া হয়নি শোভন-রাব্বানীর।

বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পরিচয় করিয়ে দেন আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। কিন্তু সেই সাবেকদের মাঝে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অপসারিত ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হন সারাদেশ থেকে আসা সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মী বিনয়ী থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। এছাড়া রিসার্চ ও উন্নয়নের জন্য আলাদা সেল গঠন করা হবে বলেও জানান।

তিনি আরও বলেন, দক্ষ প্রশিক্ষক ও ছাত্রনেতা গড়ে তুলতে বছরের শুরুতে ওরিয়েন্টেশনাল প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। ছাত্রলীগ শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য ছাত্র নেতাদের সামনে বক্তব্য দিতে পেরে নিজেকে ধন্যও মনে করেন আল নাহিয়ান খান জয়। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্যরা।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কোন কাজ নেতা-কর্মীরা করলে এর দায়ভার সংগঠন নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদক লেখক ভট্টাচার্য।

লেখক আরও বলেন, আপনারা নেত্রীর আদেশ, গঠনতন্ত্র, সংগঠনের নির্দেশনা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না। দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী, কেন্দ্রের নির্দেশনা পরিপন্থী কোনো কাজে জড়িত হলে, এর দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না। একইসঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যদি অন্যায় অবিচার করা হয়, ষড়যন্ত্রমূলক আচরণ, হয়রানিমূলক মিথা মামলা দেওয়া হয়, তাহলে তাদের রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদসহ সারাদেশের নেতাকর্মীরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবেন।

চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেয়া হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কমিটির ১ নম্বর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে আর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে।