২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৫৪

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আজ, আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক পদ

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তৈরি করা মঞ্চ   © সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল আজ। বেলা ৩টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এর উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল অধিবেশন।

এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদ রয়েছে আলোচনায়। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা নেই কারোর। শনিবার দ্বিতীয় অধিবেশনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এটা আল্লাহপাক জানেন, নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) জানেন। আমি কিছু জানি না।’

জানা গেছে, নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত হবে এবারের কমিটি। বাদ পড়বেন অনেক ‘প্রভাবশালী ও হেভিওয়েট’ অনেক নেতা। তরুণদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে বেশি সংখ্যক নতুন মুখ স্থান পাবে। 

কাউন্সিল উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একটি বাণী দিয়েছেন। কাউন্সিলের স্লোগান হচ্ছে- ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে গড়তে সোনার দেশ/এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ।’

কাউন্সিল স্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পুরোপুরি প্রস্তুত। সৃষ্টি করা হয়েছে নয়নাভিরাম দৃশ্যের। ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চারটি পদ খালি থাকায় মূল মঞ্চে চেয়ার থাকবে ৭৭টি। সামনে নেতাকর্মীদের জন্য চেয়ার থাকবে ৩০ হাজার। সম্প্রসারিত মঞ্চে চেয়ার দেয়া হবে ১৫ হাজার।

এবার ১৫ হাজার কাউন্সিলর এবং প্রতিনিধি অংশ নেবেন। এর বাইরেও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা অনুষ্ঠানে থাকবেন। সব মিলিয়ে ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত এবং খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। ২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হবে সম্মেলনের অনুষ্ঠান। উদ্বোধনের পর থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এবারের কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে মৌলিক কোনো পরিবর্তন না এলেও সহ-সম্পাদক পদ বাতিল হচ্ছে।  উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৪১ থেকে ৫১ করা হচ্ছে। কাউন্সিল অধিবেশনে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব দুটি উত্থাপন করা হবে।

আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্রে দুটি বিষয় নতুন সংযোজন করা হয়েছে। তা হল- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন। কাউন্সিলে বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য পৃথক আসন ও অনুবাদক হেডফোন থাকছে।

নতুন কমিটিতে স্থান পেতে পারেন ছাত্রলীগের সাবেক ত্যাগী নেতা, নিষ্ক্রিয় কিন্তু দলের প্রতি নিবেদিত, দুর্দিনে যারা সাহসী ভূমিকা রেখেছেন, সাবেক সহ-সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সাবেক কিছু নেতা। তালিকায় আছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কিছু উদ্যমী তরুণ।

বাদ পড়তে পারেন টেন্ডার ও চাঁদাবাজ এবং ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, কোন্দল সৃষ্টিকারী, বিএনপি-জামায়াত ঘরানার নেতাদের দলে ভিড়িয়েছেন যারা এবং নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছেন।

শনিবারের দ্বিতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন পরিচালনায় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। অপর দুই সদস্য হলেন, উপদেষ্টা সদস্য ড. সাইদুর রহমার ও ড. মশিউর রহমান।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৫২(ক) ধারা মোতাবেক কমিটি গঠন করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। কণ্ঠভোটে সমর্থন দেন উপস্থিত কাউন্সিলররা। পরে গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটি গঠন করেন  সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

কাউন্সিল ঘিরে প্রধান আলোচনার বিষয় কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক। তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নতুন কমিটিতেও তারই থাকার সম্ভাবনা বেশি।

৮১ সদস্যবিশিষ্ট আওয়ামী লীগের কমিটিতে নারীর সংখ্যা বাড়তে পারে। এ সংখ্যা হতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটির মোট সদস্যের ৩৩ শতাংশের কাছাকাছি। 

সকাল ১০টায় কাউন্সিল স্থলের প্রবেশ পথগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেট থাকবে পাঁচটি। একটি গেট ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত। সম্মেলনের প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ার কারণে মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য উদ্যানে নামাজ পড়ার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।