২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৪২

জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা কলেজের দেয়ালে শহীদ হাদি লিখেছিলেন 'ফেরাউসিনা'

নিজ হাতে ওসমান হাদির গ্রাফিতি অঙ্কন   © টিডিসি ফটো

২০২৪ সালে ১৯ নভেম্বর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেয়ালে আঁকা শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী গ্রাফিতি, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশার দেয়াল চিত্র ও লিখন মুছে ফেলেছে রাজধানীর ঢাকা কলেজ সংলগ্ন গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ। 

এ ঘটনার ২২ দিন আগে ঢাকা কলেজের দেয়ালে আকা গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি রাতের আঁধারে মুছে ফেলেন একদল দুষ্কৃতিকারী। এসব ঘটনায় তৎকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। 

গ্রফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা কলেজ  ও গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের দেয়ালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি আঁকার ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক প্রায়ত শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী। 

এরপর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর রাতে শহীদ হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা কলেজ ও গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি দেয়ালে সারারাত ধরে নিজ হাতে গ্রাফিতি আঁকেন তিনি। এসময় স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের সেরা জালিম শাসক প্রাচীন মিসরের রাজা ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করে গ্রফিতি আঁকেন। তিনি লেখেন 'ফেরাউন + হাসিনা - ফেরাউসিনা'। যা আজও নায়েমের গলি সংলগ্ন ঢাকা কলেজের দেয়ালে আমলিন হয়ে শহীদ হাদির স্মৃতিচিহ্ন ধারণ করে আছে। 

সেদিনের শহীদ ওসমান হাদির সঙ্গী ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী সুহাইল লাবীব মীর বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে হঠাৎ একদিন খেয়াল করি সব নরমালাইজ করার প্রচেষ্টা চলছে। ক্যাম্পাসের পাশের স্কুলের দেয়াল থেকে হঠাৎ বাচ্চাদের করা সকল গ্রাফিটি মুছে ফেলা হয়েছে। আমি সাথে সাথে ভিডিও করে সোস্যাল মিডিয়াতে দিই। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ভাই নিজের ফেসবুক পেজে সেটা শেয়ার দেন। সেদিন রাতেই ভাই এর টিম নিয়ে ঢাকা কলেজের নায়েমের গলিতে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকতে আসেন। 

তিনি আরও বলেন, গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল গেটের বিপরীতে ফেরাউন+হাসিনা গ্রফিটিটা তিনি নিজের হাতে আঁকেন। ঢাকা কলেজের সামনে হাসিনার বাঙ্গ্য করা গ্রাফতি ছাত্রলীগ মুছে দিয়েছিল। সেটাও ভাই ঠিক করার চেষ্টা করেন।  
ক্যাম্পাসের সামনে হাসিনার ফাঁসি চাই শ্লোগানটি লিখেন।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি সম্পর্কে তিনি বলেন, হাদি ভাই ছিলেন অমায়িক একজন মানুষ। খুব সহজে সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন। ভাইয়ের শূন্যতা আমরা সারা জীবন ধরে অনুভব করবো।