মন্ত্রীত্ব পাচ্ছেন না মির্জা আব্বাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত কয়েকজন সংসদ সদস্য মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। তবে শপথ নেওয়ার জন্য এখনও ফোন পাননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা আসনের নির্বাচিত এমপি মির্জা আব্বাস। ফলে ধারণা করা হচ্ছে নতুন সরকারের মন্ত্রী সভায় তার জায়গা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দলীয় ও সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শেষে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে পারেন মির্জা আব্বাস বলে খবর চাউর হয়েছিল। অনেকেই জানিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন মির্জা আব্বাস। তবে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীত্ব পেলেন না তিনি।
মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত সমর্থিত এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই আসনের ফলাফল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের বিষয় ছিল।
চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এহছানুল হক মিলন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ডাক পেয়েছেন। ড. মিলনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে মিলন ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এই আসন থেকে এবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। মীর শাহে আলম বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হয়েছেন।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের নির্বাচিত নুরুল হক (নুর) প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ডাক পেয়েছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শরীফুল আলম এবারই প্রথম নির্বাচনী জয়ী হয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পেয়েছেন। এছাড়াও কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ছয়বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পাঁচবার বিজয়ী হয়েছেন।
আরিফুল হক চৌধুরীও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। তিনি এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এর বাইরে নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। রয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপনও। বরিশাল–১ আসনের সংসদ সদস্য জহির ইতোমধ্যে ফোনও পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও রয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ পান ৮০ হাজার ২৮৩ ভোট।
এছাড়ও রয়েছেন ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাবিবুর রশীদ হাবিব। বিএনপির হাবিবুর রশীদ এই আসন থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন তাসনিম জারা।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, জুনায়েদ সাকি, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, রাজিব আহসান, আজিজুল বারি হেলাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, ববি হাজ্জাজ আমিনুল হক (টেকনোক্রেট)। মন্ত্রিসভার এই তালিকা আরও বড় হবে বলে জানা যাচ্ছে।
তথ্যমতে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ সকালে সংসদ ভবনে শপথ নেন। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।