১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:১৪

বিচারের আগে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে : বিপ্লবী পরিষদ

বিপ্লবী পরিষদের লোগো  © সংগৃহীত

বিচারের আগে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিপ্লবী পরিষদ। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহবায়ক খোমেনী ইহসান। 

খোমেনী ইহসান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় খুলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও পুলিশ আইনী বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও কোনো ব্যবাস্থা নিচ্ছে না। 

বিবৃতিতে বলা হয়,  ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কর্তৃক যে কোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো”।

বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলা হয়, জুলাই গণহত্যার দায়ে বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ভোট পাওয়ার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পলাতক ও ফেরার অবস্থা থেকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন। নির্বাচনের পর এসব আওয়ামী নেতাকর্মীই দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে দলটির কার্যালয়ে তালা খুলে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। কিন্তু পুলিশ এ বেআইনী নিষিদ্ধ রাজনৈতিক তৎপরতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

খোমেনী ইহসান বলেন, প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রধান যুক্তি ছিল গণহত্যার মামলার বিচারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, বাংলাদেশের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করতে দলটির তৎপরতা পরিলক্ষিত হওয়া। এ অবস্থায় নির্বাচনে বিজয়ী দল ও পুলিশের সম্মতিতে আওয়ামী লীগের এ পুনর্বাসন কার্যক্রম সুস্পষ্টতঃ জুলাই গণহত্যার বিচার বানচাল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিবৃতিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণহত্যার দায়ে দলগতভাবে আওয়ামী লীগের ও গণহত্যায় জড়িত দলটির নেতাকর্মীদের বিচার প্রশ্নে আপস সমঝোতা ও মীমাংসার সুযোগ নাই। নতুন নির্বাচিত সরকারকে সবার আগে জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে। বিচার না করে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার সুযোগ নাই। যদি এমনটি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে বাংলাদেশের জনগণ বিচার আদায় করতে লড়াই করবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে ফ্যাসিবাদকে বারবার উৎখাতের পর বারবার পুনর্বাসন বাংলাদেশের রাজনীতির পুরনো অসুখ, জনগণ আশা করে জুলাই বিপ্লবের পর এ অসুখ থেকে সরকার ও বিরোধী দলগুলো বিরত থাকবে।