চার মাস পর কেনো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করছে এনসিপি
গতবছর অক্টোবরে ঐক্যমত কমিশনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেছিলো। তবে সেসময় স্বাক্ষর করেনি অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের শক্তির রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে চার মাস পর আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জুলাই সনদ স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে তারা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এতসময় পর কেনো জুলাই সনদ স্বাক্ষরের গুরত্ব মনে করছে দলটি।
দীর্ঘ ৮ মাসের সংলাপের পর গত বছরের ১৭ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলো।
সেসময় এনসিপি কেনো স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিলো জানতে চাইলে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমীন দ্য ডেইলি ক্যাপাসের সাথে মুঠোফোন আলাপে বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই সনদে সাক্ষর করেনি কয়েকটা কারণে। আমরা তখনও পর্যন্ত জুলাই সনদ কিভাবে বাস্তবায়ন হবে, এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং আইনি ভিত্তির বিষয়গুলো নিয়ে নিশ্চিত ছিল না। আমরা মনে করি, জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর না করার কারণে একটা প্রেসার ক্রিয়েট হয়েছে ওই সময়টাতে। যার ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে, বাস্তবায়ন আদেশ এসেছে, সংস্কারের একটা আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হয়েছে।
জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ এবং সনদ বাস্তবায়নে জনরায়ের প্রয়োজন ছিলো বলেও মনে করেন এনসিপির এই নেত্রী। তিনি বলেন, এখন গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিটা শক্ত হয়েছে। আমাদের মনে হয়েছিল সনদ বাস্তবায়নে জনরায়ের একটা গুরুত্ব আছে। কারণ আমরা দেখেছি, যারা সংস্কার নিয়ে আন্তরিক ছিলো না, আইনি ভিত্তি বা জুলাই সনদ আদেশ নিয়ে আন্তরিক ছিলো না এবং এই গণভোটের বিপক্ষে তাদের ক্যাম্পেইন করতে দেখেছি। সেসময় স্বাক্ষর না করা আমাদের গণতান্ত্রিক নেগোসিয়েশনের একটা অংশ হিসেবে, স্ট্র্যাটেজির একটা অংশ হিসেবে আমরা দেখছিলাম।
এতসময় পর কেনো এনসিপি সনদের স্বাক্ষরের গুরুত্ব অনুভব করছে এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরা শারমীন বলেন, তখন যদি আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে ফেলতাম তাহলে হয়তো জুলাই সনদ আদেশ বা গণভোট নিশ্চিত হতো না। এখন গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে অর্থাৎ সংস্কার জয়যুক্ত হয়েছে। জনগণ যখন রায় দিয়ে দিয়েছে, সংস্কার দরকার, এখন আমরা মনে করি আমাদের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। জনগণের এই আমানত, হ্যাঁ ভোট, এই আমানত রক্ষার জন্য ভবিষ্যতে কেউ যাতে সংস্কারকে নাকচ করতে না পারে এইটা নিশ্চিত করার জন্য আমরা হচ্ছে জুলাই সনদ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার যে দায়িত্ব সেটা নিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আগামী ছয় মাস বা ১৮০ দিন এই সংসদটা সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। এখানে যেহেতু আমাদের ছয়জন নির্বাচিত সদস্য থাকবেন, তাহকে আমরা যদি স্বাক্ষর না করি, তাহলে তাদের যে লিগ্যাল অথরিটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সুতরাং সংস্কারের স্বার্থে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি কখনো সংস্কারের ব্যাপারে যারা আন্তরিক না বা সংস্কার বিরোধী যারা, তারা যদি আদালতে চ্যালেঞ্জ করে, আমরা যদি স্বাক্ষর না করি তাহলে সেই আইনি লড়াইটা সেই অধিকার আমাদের থাকবে না বলে আমরা মনে করছি।
এর আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এনসিপির মিডিয়া উপ কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম জানান, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যাবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি দল। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।