১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩১

৯৯ শতাংশ প্রার্থীই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন: টি‌আইবি

৯৯ শতাংশ প্রার্থীই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন: টি‌আইবি  © সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ প্রার্থীই কোনো না কোনোভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টি‌আইবি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) টি‌আইবি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

টি‌আইবি বলছে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের তথ্যবিহীন প্রচার সামগ্রী ব্যবহার, যানবাহন নিয়ে মিছিল, মশাল মিছিল ও শো-ডাউন আয়োজন, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা বা নষ্ট করা এবং পাঁচজনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া।

আচরণবিধির মোট ৫৮টি সূচকে দলভিত্তিক বিশ্লেষণ করেছে টি‌আইবি। নমুনা সংখ্যা হিসেবে বিএনপির ৬৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রার্থী ১ থেকে ১০টি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। ৩১.৮ শতাংশ প্রার্থী ১১ থেকে ২০টি আচরণবিধি লঙ্ঘনে যুক্ত ছিলেন। একই সময়ে ২১ থেকে ৩০টি লঙ্ঘনের হার ছিল ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ। এই প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ৩১ থেকে ৪০টি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। আর ৪০টির বেশি আচরণ লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ৪.৫ শতাংশ প্রার্থী।

৫২টি নমুনায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ৭.৭ শতাংশ ১ থেকে ১০টি, ৫১.৯ শতাংশ ১১ থেকে ২০টি, ২৮.৮ শতাংশ ২১ থেকে ৩০টি এবং ১১.৫ শতাংশ প্রার্থী ৩১ থেকে ৪০টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তরুণদের রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) টি‌আইবির তথ্য বলছে, ৩২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলটির ১১ প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের হার বিশ্লেষণ করে টি‌আইবি দেখিয়েছে, এই প্রার্থীদের মধ্যে ১ থেকে ১০টি লঙ্ঘনের হার ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১১ থেকে ২০টি লঙ্ঘনের হার ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

জাতীয় পার্টির ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ থেকে ১০টি এবং ১১ থেকে ২০টি লঙ্ঘনের হার ছিল সমানভাবে ৫০ শতাংশ করে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ থেকে ১০টি লঙ্ঘনের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ, ১১ থেকে ২০টি লঙ্ঘনের হার ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০টি লঙ্ঘনের হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৩১ থেকে ৪০টি লঙ্ঘনের হার ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

১৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ থেকে ১০টি লঙ্ঘনের হার ১৪.৩ শতাংশ, ১১ থেকে ২০টি লঙ্ঘনের হার ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০টি লঙ্ঘনের হার ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০টি লঙ্ঘনের হার ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৪০টির বেশি লঙ্ঘনের হার ৭ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যান্য দলের ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ থেকে ১০টি লঙ্ঘনের হার ছিল ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ, ১১ থেকে ২০টি লঙ্ঘনের হার ২৫ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০টি লঙ্ঘনের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০টি লঙ্ঘনের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৪০টির বেশি লঙ্ঘনের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

টি‌আইবি বলছে, সার্বিকভাবে মোট ২০৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রার্থী ১ থেকে ১০টি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে ৩৮ শতাংশ প্রার্থী ১১ থেকে ২০টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ২১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রার্থী ২১ থেকে ৩০টি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, ১১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রার্থী ৩১ থেকে ৪০টি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়েছেন এবং ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রার্থী ৪০টির বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।