টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী, এবারের সংসদে কারা আলোচনায় আছেন এই পদে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি এখন নতুন মন্ত্রিসভা সাজাতে ব্যস্ত। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম এক প্রকার নিশ্চিত।
তবে এই মন্ত্রিসভায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সবার নজর এখন ‘টেকনোক্র্যাট’ কোটার দিকে। কারা আসছেন এই বিশেষ কোটায় এবং কেন তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বইছে আলোচনার ঝড়। দলের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, এবারের মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। এ প্রসঙ্গে তারা বলেন, “নবীন-প্রবীণের মিশেলে হবে এবারের মন্ত্রিসভা। যেভাবে সারা দেশে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই ছাপ দেখা যাবে মন্ত্রিসভাতেও।”
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট
সহজ কথায়, যারা সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হননি, কিন্তু বিশেষ দক্ষতা বা যোগ্যতার কারণে মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তারাই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার অনধিক এক-দশমাংশ সদস্যকে সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাঁদের অবশ্যই সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। সাধারণত বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বা বিশেষ অবদানের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী এই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। নিয়মানুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের আগে বা সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিন আগে এই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হয়।
টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় যারা
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রমতে, এবার টেকনোক্র্যাট কোটায় বেশ কিছু চমক থাকতে পারে। দলের দীর্ঘ সময়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ ব্যক্তিদের এই তালিকায় রাখা হচ্ছে। আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। দলীয় অভ্যন্তরে গুঞ্জন রয়েছে যে, তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনকে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যাওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলও এই পদের দৌড়ে আলোচনায় আছেন।
একই কোটায় মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। মূলত দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে যারা দলের হাল ধরে ছিলেন, তাদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই এই সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।