টানা চারবার নির্বাচিত সরওয়ার জামাল নিজামকে মন্ত্রী করার দাবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন থেকে টানা চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্য ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এর মধ্য দিয়ে তিনি এ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। ফলে আসনজুড়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। একই সঙ্গে তার প্রতি প্রত্যাশাও বেড়েছে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও প্রবীণ নেতৃত্বের কারণে সরওয়ার জামাল নিজাম আসন্ন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার যোগ্য। দক্ষিণ চট্টগ্রামে তরুণ সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতৃত্ব হিসেবে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সরকারের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, বিপুল ভোটে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়ে সরওয়ার জামাল নিজাম তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি অতীতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতি, ব্যবসা ও প্রশাসনিক কাজে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাকে মন্ত্রী করা হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে।
আনোয়ারা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারেছ আহমেদ বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিসভায় যে ধরনের যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই গুণাবলি সরওয়ার জামাল নিজামের মধ্যে রয়েছে। শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা তৈরিতে তার ভূমিকা রয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নানা ষড়যন্ত্রের মুখেও তিনি টিকে থেকেছেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
রাজনৈতিক জীবনে সরওয়ার জামাল নিজাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি পরপর দুইবার চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো এ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান প্রসারে কাজ করার দাবিও রয়েছে তার সমর্থকদের। পাশাপাশি তিনি ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তার প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।