১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৯

গাইবান্ধা কারাগারে থাকা আওয়ামী নেতার মৃত্যু

আওয়ামী লীগের নেতা শামীকুল ইসলাম লিপন  © টিডিসি

গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়া পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ শামীকুল ইসলাম লিপন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত গভীর রাতে কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে তিনি মারা যান।

দীর্ঘদিন ধরে একটি মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি গাইবান্ধা জেলা কারাগারে হাজতি হিসেবে ছিলেন। শনিবার রাত ১১টার দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

শামীকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেলার আতিকুর রহমান জানান, তিনি গাইবান্ধা সদর থানার জিআর ১৭৬/২৫ মামলার হাজতি ছিলেন। এর আগেও তিনি কারাগার থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, শামীকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপজনিত রোগে ভুগছিলেন এবং এর আগে তিনি রংপুর মেডিকেলে ভর্তিও ছিলেন।

উপাধ্যক্ষ শামীকুল ইসলাম লিপনের রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য। ১৯৯৬ সালে পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে তার রাজনৈতিক অভিষেক হয়। এরপর তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৮ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও পরে উপাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে পলাশবাড়ী থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। কিছু দিন পর জামিনে মুক্তি পেলেও গত ৫ ফেব্রুয়ারি জেল গেট থেকে তাকে আবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সর্বশেষ গাইবান্ধা সদর থানার জিআর ১৭৬/২৫ মামলার হাজতি হিসেবে তিনি জেলা কারাগারে ছিলেন।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা জেলা কারাগারে এ নিয়ে গত কয়েক মাসের মধ্যে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তারিক রিফাত (৫০) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা এবং একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক মুন্না (মুন্না চেয়ারম্যান) এই জেলা কারাগারে মারা যান।