১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৩২

চাঁদাবাজদের ধরে পুলিশে দিলে পুরস্কার ঘোষণা নবনির্বাচিত এমপির

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল  © টিডিসি ফটো

কক্সবাজার-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল চাঁদাবাজি দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি লিখেন, 'আমার নির্বাচনী এলাকায় কেউ যদি চাঁদাবাজি করে, সাথে সাথে পুলিশে দিন। সাহসিকতার জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে।' 

ফেসবুকে দেওয়া এই পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনরা তার এমন দৃঢ় অবস্থানকে স্বাগত জানান। অনেকেই মন্তব্যে চাঁদাবাজিমুক্ত কক্সবাজার গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং নতুন সংসদ সদস্যের ঘোষণাকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেও মন্তব্য করেন।

জানা গেছে, বর্তমানে লুৎফুর রহমান কাজল ঢাকায় অবস্থান করছেন। শুক্রবার তিনি রাজধানীতে যান। তবে দূরে অবস্থান করলেও নিজের নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি যে সজাগ রয়েছেন, তার এই পোস্ট সেটিই ইঙ্গিত করে। নির্বাচনী প্রচারণাকালেও তিনি প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বার্তা দিতেই তার এই ঘোষণা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তার এমন বক্তব্য কেবল প্রশাসনের জন্যই নয়, দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিও একটি স্পষ্ট বার্তা। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে তা বরদাশত করা হবে না—এমন ইঙ্গিত এতে স্পষ্ট। তাদের মতে, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আইনশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবোধের বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঘোষণার পর কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হবে এবং কক্সবাজার-৩ আসনে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায়।