১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬

অভিজ্ঞ-তারুণ্যের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা প্রায় চূড়ান্ত, আলোচনায় আছেন যারা

বিএনপির লোগো   © সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে নতুন মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিএনপি চায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গতি আনা, প্রশাসনে কার্যকারিতা বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করতে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী এবং তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীকেও পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে (রাষ্ট্রপতি কিনবা উপ প্রধানমন্ত্রী) পদে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে। ড. আব্দুল মঈন খানকে স্পিকার, মির্জা আব্বাসকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় সরকার, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বাণিজ্য এবং এএনএম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামও মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য হিসেবে ঘুরছে। স্থায়ী কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নতুন মুখের সংযোজন হিসেবে মন্ত্রিসভায় একাধিক মুখ যুক্ত হতে পারেন। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী (তথ্য ও সম্প্রচার-টেকনোক্র্যাট কোটায়), ইসমাইল জাবিউল্লাহ (জনপ্রশাসন-টেকনোক্র্যাট), শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি (প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র) এবং হুমায়ুন কবির (চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা-প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র; টেকনোক্র্যাট)।

ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদারদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা আগে থেকেই দিয়েছিল বিএনপি। সেই অনুযায়ী শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় রাখা হবে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি), নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ), ড. রেজা কিবরিয়া (অর্থ মন্ত্রণালয়) এবং ১২ দলীয় জোটপ্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার (টেকনোক্র্যাট কোটায় বিবেচনায়)।