১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৪৪

বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাইয়ে দিতে রেজাল্ট টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আসিফের

আফিস মাহমুদ  © সংগৃহীত

বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাইয়ে দিতে রেজাল্ট টেম্পারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, সারাদেশে এই নির্বাচনে বিএনপিকে টু থারড মেজরিটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য এক ধরনের মেডিকুলাসলি প্ল্যান করে ভোট গণনায় কারাচুপি করা হয়েছে। ভোট গণনায় রেজাল্ট টেম্পারিং করা হয়েছে। অনেকগুলো আসনে যেখানে আমরা কাছাকাছি লো মার্জিনে জেতার কথা সেই আসনগুলোতে এই ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদেরকে হারানো হয়েছে। বিএনপিকে জাস্ট স্লাইট স্লাইড ২০০ সিট পাইয়ে দেয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, এইটাকে আমরা তুলনা করতে পারি ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঠিক যেটা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে যেটা হয়েছিল ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তারা ২৯ টা আসন পেয়েছিল। এবারও ঠিক একই রকম বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মিডিয়া স্টাবলিশমেন্ট সকলের একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর মধ্য দিয়ে, সকলের একটা বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে আমরা এটা করতে দেখেছি।

৩ টি আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অন্তত তিনটি আসনে আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম যেখানে আট ঘন্টা নয় ঘন্টার বিভিন্ন নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে, বিভিন্ন নতুন ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে বারবার কাউন্ট করে করে আমাদের প্রার্থীদের ভোট কমিয়ে তাদেরকে হারানো হয়েছে। ঢাকা-৮ আসন যেখানে আমাদের পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটনার প্রার্থী ছিলেন, পঞ্চগড়-১ যেখানে সার্জিস আলম প্রার্থী ছিলেন এবং দিনাজপুর-৫ আসনে ডক্টর আব্দুল আহমদ আহমেদ প্রার্থী ছিলেন। এই আসনগুলোতে আমরা মনে করি যে আমরা বিজয়ী হয়েছি কিন্তু রেজাল্টের মাধ্যমে, খুবই অল্প মার্জিনে আমাদেরকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। তবে এই আসনগুলোতে আমরা আমাদের প্রার্থীরা তারা রিভিউ আবেদন করছেন। ভোট গণনার আবেদন ইতিমধ্যে করেছেন। আমরা আশা করব যে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠভাবে সে আবেদন গ্রহণ করবেন এবং সেটা সম্পাদন করবেন। 

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে এবং হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হয়েছে। আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বলতে চাই,  শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে যারা সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, যারা সরকার গঠন করবেন সকলকে এই জুলাই সনদ, যেটার জনরায়ের মধ্য দিয়ে একটা লেজিটেসি পেয়েছে, এই গণভোটের লেজিটিমেসি জাতীয় নির্বাচনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এই অঙ্গীকার করে তাদের সংসদে পা রাখতে হবে যে, তারা এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। জনগণ যে রায় দিয়েছে সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখাবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটা বাস্তবায়ন করবে।

বিএনপি নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপির বিভিন্ন প্রার্থীর নেতাকর্মীরা আমরা দেখছি আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস যেটা দেড় বছর ধরে বন্ধ ছিল সেগুলো উদ্বোধন করছেন। এটা থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে আওয়ামী লীগের সাথে এক ধরনের গোপন আন্ডারস্ট্যান্ডিং এবং আঁতাতের মধ্য দিয়ে তারা নির্বাচনে জয় লাভ করতে পেরেছেন। যেহেতু আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খুব বেশি পার্থক্য ১১ দলীয় জোট এবং বিএনপির প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে নেই, সুতরাং আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর এক ধরনের প্রতিশ্রুতি বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে তারা নির্বাচনে জয় লাভ করার চেষ্টা করেছেন। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আছে আইনগতভাবে এবং এই অবস্থায় ঘোষণা দিয়ে কিংবা মিডিয়ার সামনে এসে আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধম করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আমরা দাবি জানাচ্ছি।