পাবনায় ধানের শীষের ভোট করায় বাড়ি ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ
পাবনার আটঘরিয়া ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন করায় এক আওয়ামীলীগ কর্মীর বাড়িতে ও স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ফলাফল ঘোষণার পর উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুর গ্রামে নির্বাচনের রাতেই এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, শ্রীকান্তপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ খাঁ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ধানের শীষের ভোট করেন।
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের আটঘরিয়া উপজেলার শ্রীকান্তপুর গ্রামে একটি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ফলাফল ঘোষনার পর ওই ভোট কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পরাজিত হন।
হামলার শিকার আব্দুল লতিফ খাঁ বলেন, 'শ্রীকান্তপুর কেন্দ্রে পরাজিত হওয়ার খবর পাওয়ার পর পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা জহুরুল ইসলামের ভাতিজা পলাশের নেতৃত্বে ২৫/৩০ জনের একদল রাত ১২ টার দিকে অতর্কিত তার বাড়িতে হামলা চালায়।'
হামলাকারীরা বাড়িঘরে ঢুকে দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে জানাগেছে।
অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাংচুরের পর লুটপাট চালিয়ে যাওয়ার সময়ে স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরে ঘটনা ঘটায়।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা দাবী করে ওসি বলেন, 'হামলার শিকার ব্যক্তিকে অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।'
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। পরাজিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।