চট্টগ্রাম-১৩: বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর ধানের শীষের জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘাত ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড় সাতটা থেকে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনার পর রাতে ফলাফল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার মোট ৬৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩১৪ ভোট। এর মধ্যে আনোয়ারা থেকে ৪৬ হাজার ৩৮ এবং কর্ণফুলী থেকে ২৪ হাজার ২৭৬ ভোট পেয়েছেন তিনি।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুন্নী জোটের প্রার্থী এসএম শাহজাহান মোমবাতি প্রতীকে নির্বাচন করে পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯৭৭ ভোট। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী ১৮ হাজার ১৮৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে সিংহ প্রতীকের এমরান চৌধুরী ২০৪ ভোট এবং আপেল প্রতীকের মু. রেজাউল মোস্তফা ১৬৬ ভোট পেয়েছেন।
ভোটগ্রহণ চলাকালীন বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টায় রায়পুর চুন্নাপাড়া কেন্দ্রে নির্বাচনী সিল হারিয়ে যাওয়া এবং জামায়াতের মহিলা এজেন্টের কাছ থেকে মোবাইল জব্দ করা হয়। যদিও প্রিজাইডিং অফিসার মাসুদ পারভেজ দ্রুত সিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
দুপুরে বটতলী শাহ্ মোহছেন আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর কিছুক্ষণ পর গুয়াপঞ্চক উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএনপি ও সুন্নী জোটের সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ৬ জন আহত হন। ৬নং ওয়ার্ডে (পশ্চিম রায়পুর) বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
আনোয়ারার ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
অন্যদিকে, কর্ণফুলীর ইউএনও সজিব কান্তি রুদ্র জানান, তার এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন।