ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে কেন, সেখানে কী হচ্ছে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলে বলেন, কিছু আসনে ইঁদুর-বিড়াল খেলা কেন? এমনকি ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন? সেখানে কী হচ্ছে আপনারা সাংবাদিকরা জানেন। এগুলো সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিচয় নয়, অসুস্থ ধারার রাজনীতি। বিষয়গুলো আমরা বিবেচনায় নেব এবং জাতিকে যতটুকু জানানো দরকার মনে করব, জানাব যাতে ভবিষ্যতে একই মন্দ কাজের চর্চা বা ধারাবাহিকতা না থাকে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মাঝখান থেকে উদাহরণ হয়ে গেল, আবার নাই। আমাদের লোকদেরকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হলো। একটু আগে উনারা একদম প্রথম পর্যায়ে ১০টা–১২টা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা শুরু করেছেন। সেটাও বেসরকারিভাবে। সব মিলিয়ে এখন আপনাদের সামনে পূর্ণাঙ্গ কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না বলে আমরা দুঃখিত।
তিনি বলেন, আমরা দেব, ইনশাআল্লাহ। আমরা আবার বসব, নিজেদের মধ্যে বসে এগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করব। আমাদের কোনো ত্রুটি-ঘাটতি থাকলে সেটা দেখব। আবার যদি সামগ্রিক কোনো বড় ত্রুটি-ত্রুটি থাকে, সেটাও আমরা সামনে আনব। আমরা আগেই বলেছি, ছোটখাটো কোনো বিষয় নিয়ে আমরা টানাটানি করব না। পুরোনো রাজনীতির সংস্কৃতিতে আমরা ফিরে যেতে চাই না। আমরা ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করতে চাই।
তিনি বলেন, রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয়, তাহলে যারা রাজনীতি করবেন, তাদেরকে মেনে নিতে হবে পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো নির্বাচন হয় না, কোনো রাজনীতি হয় না। আপনি মানুষের কাছে যাবেন আপনার বক্তব্য নিয়ে। মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, যতটুকু গ্রহণ করবে, তার জন্য তাদের অভিনন্দন জানানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, দেশবাসী যতটুকু আমাদের সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই সরকার অফিসিয়াল রেজাল্ট প্রকাশ করবে। সেটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আমরা আবার আপনাদের সামনে আসব এবং আমাদের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি জাতিকে জানাব।
আরও পড়ুন: রেজাল্ট শিটে ববি হাজ্জাজের ‘কাটাকাটি ফল’ ফেসবুকে সয়লাব
তিনি বলেন, আপনারা আশ্বস্ত থাকতে পারেন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হবে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি, কল্যাণের রাজনীতি, মানুষের জন্য রাজনীতি; দলের জন্য রাজনীতি নয়। আমরা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না। কোরআনের একটি মূলনীতি আছে ভালো কাজে সহযোগিতা করো, আর কাজটি যদি মন্দ বা অকল্যাণকর হয়, তাহলে তার বিরোধিতা করো অথবা সহযোগিতা থেকে বিরত থাকো। আমাদের মূলনীতি সেটাই হবে। ভালো কাজে সহযোগিতা থাকবে, মন্দ কাজে জনগণের অধিকার রক্ষায় আমরা কথা বলব।
তিনি বলেন, বিস্তারিত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়গুলো আমরা কাল বা পরশুর মধ্যে পেয়ে যেতে পারি। সরকার ও নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে তারা ১৩ তারিখের মধ্যে রেজাল্ট দেবে। আমরা সেটির অপেক্ষায় আছি। যদি দেয়, ভালো। না দিলে সংগত সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করব।
কতটি আসনে জয় পেয়েছেন এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন নির্দিষ্ট করে বলতে চাই না। রাত অনেক হয়েছে, ফাইনাল কিছু বলাও সম্ভব নয়। সঠিক উত্তর এখন আমাদের কাছে নেই, কারণ বেশ কিছু আসন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদের কাছে যে সাইন করা শিট এসেছে, সেখানে আমরা দেখছি আমরা এগিয়ে আছি। কিন্তু এটিকেও ঘিরে লোকালি বিভিন্ন তালবাহানা করা হচ্ছে পোস্টাল ব্যালট মিলিয়ে দেখতে হবে, আরও কিছু বিষয় আছে। এই ‘এই-ওই’ বিষয়গুলো আমরা বুঝতে পারছি না। পরিষ্কার বার্তা পেলে তখন অবস্থান জানাব।
কারচুপির আশঙ্কা আছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং জায়গায় অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু এখনই কিছু বলতে চাই না। সবকিছু ফাইনাল হয়ে হাতে এলে, আমরা ১১ দলের নেতৃবৃন্দ বসে সব তথ্য কম্পাইল করে আপনাদের সামনে আসব।
নির্বাচন কমিশনের ফল মেনে নেবেন কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ইতিবাচক ধারার রাজনীতি থেকেই আমাদের মেসেজ নিতে হবে।
গণনার সময় হঠাৎ আপডেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই কেউ না কেউ দায়ী থাকবে। তবে নিশ্চিত না হয়ে বাতাসে কথা ছুড়ে দিতে চান না। যাচাই করে তারপর বলবেন।
ফেসবুক পেজে আসা ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেটুকু পেয়েছি সেটুকুই বলছি। এটি চূড়ান্ত ফল নয়, শুধু একটি আপডেট।
নাহিদ ইসলামের বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসিয়াল ফল এখনো ঘোষণা হয়নি। গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে সেটাই অফিসিয়াল হবে। এখন যা দেওয়া হচ্ছে, তা নন-অফিশিয়াল প্রাইমারি রেজাল্ট।
ভবিষ্যতে অসন্তুষ্টি থাকলে লাভ হবে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি লাভ-লোকসানের বিষয় নয়। আমরা সত্য তুলে ধরব। তবে আমরা চাই জনগণের রায় সঠিকভাবে সামনে আসুক।
শেষে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। রেজাল্ট শিট হাতে আসার পর কেন পেন্ডিং রাখা হবে—সে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সমাধান হলে অবস্থান জানানো হবে।
তিনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দের নাম উল্লেখ করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমাদের মুখে হাসি দেখবেন, আপনাদের মুখেও যেন হাসি থাকে।’