সারাদেশে ভোটকেন্দ্রে মৃত্যু বেড়ে ৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্র ও কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির এক নেতা, একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, একজন পোলিং কর্মকর্তাসহ সাধারণ ভোটাররা। কেউ ভোট দিতে গিয়ে, কেউ ভোট দিয়ে ফেরার পথে, আবার কেউ দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। কয়েকটি ঘটনায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও উঠেছে।
খুলনায় মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি (৬০) সকালে আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে মারা যান। বিএনপির অভিযোগ, কেন্দ্রের ভেতরে ভোট চাওয়ার প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে মাথায় আঘাত পান। মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। বাধা দিলে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নারী কর্মীদের বের করে দেওয়া হচ্ছিল। বাধা দিলে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধাক্কা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’ খুলনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম মিলনায়তন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে পোলিং কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮) অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শামীম আল মামুন বলেন, ‘তিনি কর্মরত অবস্থায় পড়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।’
সাতক্ষীরার তালায় ভোট দিতে যাওয়ার পথে অনাথ ঘোষ (৬৫) অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাঁর স্বজন জয়দেব ঘোষ বলেন, ‘ভোট দিতে বের হওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।’ চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মো. মনু মিয়া (৫৭)। তাঁর চাচা ফজল কবির বলেন, ‘ভোট দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল তাঁর। ভোট দেওয়ার আগেই মৃত্যু হলো।’
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর রাজ্জাক মিয়া (৫৫) মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাড়া খেয়ে দৌড়ানোর সময় তিনি লুটিয়ে পড়েন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, ‘তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। শরীরে আঘাতের আলামত নেই। প্রাথমিকভাবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা।’
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ভোটকেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে মারা যান বাবু মিয়া (৭০)। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ গাইবান্ধার সাঘাটায় ভোট দিয়ে ফেরার পথে বাছের চৌধুরী (৬০) মারা যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বলেন, ‘বৃদ্ধের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।’
ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ভোট দিতে গিয়ে আবু সাঈদ সরকার (৫৩) অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাঁর স্ত্রী প্রীতি ইসলাম বলেন, ‘ভোট দিতে গিয়ে সিঁড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ময়মনসিংহ-১ আসনে দায়িত্ব পালনকালে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম (৪৮) অসুস্থ হয়ে মারা যান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।