রাজধানীতে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল থেকে নিস্তব্দ ও সুশৃঙ্খল ভোট চললেও দুপুর গড়াতেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সেনা ও আইনশৃঙ্খলা নজরদারিতে রাজধানীর কেন্দ্রগুলোতে তুলনামুলক তেমন সংঘাত ঘটেনি। তবে ঢাকা-৮ আসনের রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তার উপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই নেতা।
দুপুরের দিকে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ভোটকেন্দ্র মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শনে যান। সে সময় তিনি বলেন, মানুষ আসলে আমাকে নয়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে ভোট দিচ্ছে। তাই আমার দায়িত্ব অনেক বেড়ে যাচ্ছে। তার নির্বাচনে কাজ করা সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ভোটের দিন নিরাপত্তা ও অশান্তি রোধে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ আহত হয়, তা সন্ধ্যা পর্যন্ত সহ্য করতে হবে এবং প্রয়োজনে প্রশাসনের সাহায্য নিতে হবে। ইনশাআল্লা বিজয়ের ফল সুমিষ্ট হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, শাপলা কলির জোয়ারে একটি দলের মানুষ ভয় পাচ্ছে। ভোটকেন্দ্র স্থগিত করা ও মেনে না নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, আমরা এমন খোঁজ পেয়েছি। যে পুলিশের কাছে বডিওর্ন ক্যামেরা আছে, তাদের একটু দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া ভোট ক্যাম্পগুলো কেন্দ্রের ৪০০ গজ দূরে থাকার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় আমরা ৪০০ গজের মধ্যেই দেখেছি।
একই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে কোনো ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ফলাফল‘ মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি। মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, আমি এই এলাকায় ৫-৬ বার নির্বাচন করেছি। এবারই জামায়াতে ইসলামী জোটের এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দিন পাটওয়ারীর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শুনছি। এমন অভিযোগ আগে কোন সময় শুনিনি। তিনি বলেন, ভোটের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থকরা ওই ভোটকেন্দ্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় কিছু ব্যক্তি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রার্থী এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে মির্জা আব্বাসের কেন্দ্রে সাংবাদিক হেনস্তা ও পুলিশের টানাহেঁচড়ার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে মির্জা আব্বাসের ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক বাধার মুখে পড়েন। এ সময় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। হেনস্তার শিকারদের মধ্যে দৈনিক জনকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুর রহিমও রয়েছেন। তিনি বলেন, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি কেন্দ্রের ভেতরের পরিস্থিতি দেখার জন্য উপরে উঠতে গেলে এক পুলিশ সদস্য তাকে পেছন থেকে টেনে ধরেন। তার দাবি, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও ওই পুলিশ সদস্য জানান, সাংবাদিকরা মাঠে থাকতে পারবেন, উপরে উঠতে পারবেন না। এ সময় কয়েকজন নারীও তাকে বাধা দেন এবং ধাক্কাধাক্কি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।