‘তরুণ প্রজন্ম সাংবাদিকের ভূমিকা পালন করছে, কোন মেকানিজম কাজ করবে না’
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ। তারা বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মের হাতে প্রযুক্তি থাকায় সবাই এখন এক ধরনের সাংবাদিক ও প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে। ফলে কোনো কারচুপি, মেকানিজম বা মিডিয়া ট্রায়াল কাজ করবে না। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যৌথ লাইভে তারা এসব কথা বলেন এবং জেন-জি ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান।
লাইভে আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘ছাত্র-জনতাকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানাই। তরুণরা যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা যে ভোট দেব, সেই ভোট ফলাফল পর্যন্ত পৌঁছাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের প্রতিটি মানুষের হাতেই এখন ডিভাইস রয়েছে। ফলে সবাই কার্যত একজন সাংবাদিকের ভূমিকা পালন করছে। প্রত্যেকে এখন প্রহরীর ভূমিকায়। কেউ যদি পেছন দিক দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে বা প্রশাসনের ভেতর থেকে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়, সেসব আমরা ডকুমেন্টেশন করছি। জনগণ ও ছাত্রসমাজই শেষ পর্যন্ত বিচার করবে।’
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের কারচুপি, মেকানিজম বা মিডিয়া ট্রায়াল কাজ করবে না। ইয়াংদের হাতে মোবাইল আছে, সবাই সতর্ক। গুজব কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, তা আমরা আগেই দেখিয়েছি। এবারও কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠেছে, তারা হয়তো সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়, কিন্তু তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন। এই প্রজন্ম দেশকে ভালোবাসে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে তারা অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
লাইভে তারা আরও আহ্বান জানান, ফজরের নামাজের পর থেকেই তরুণদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পাহারায় থাকতে হবে। নারী, বয়স্ক ও সাধারণ ভোটারদের নিরাপদভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তারা। কেউ ভোটাধিকার হরণ করতে চাইলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু ভোট নয়, এটি গণভোট—আজাদি, ইনসাফ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের পক্ষে গণভোট। আমরা কোনো একক দল বা ব্যক্তির বিজয় চাই না; চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।’ তিনি তরুণ প্রজন্মকে ফজরের নামাজ আদায় করে মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।