যশোরের ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৫ প্রার্থী
রাত পোহালেই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৩৫ প্রার্থী। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় ভোটার ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬, মহিলা ১২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৭ ও হিজড়া ২৫।
৩৫ প্রার্থীর মধ্যে যারা লড়ছেন যশোর-১ শার্শা আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আজীজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল), বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বক্তিয়ার রহমান (হাতপাখা) মার্কা।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইদ্রিস আলী (হাতপাখা), বাসদের প্রার্থী ইমরান খান (মই), স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া), স^তন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান (ফুটবল), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের প্রার্থী শামছুল হক (টেলিভিশন), এবি পার্টির প্রার্থী রিপন মাহমুদ ( ঈগল) মার্কা ।
যশোর-৩ সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ( হাতপাখা), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল কাদের (দাঁড়িপাল্ল), জাতীয় পার্টির প্রার্থী খবির গাজী (লাঙ্গল), জাগপার প্রার্থী নিজাম উদ্দীন অমিত (চশমা), সিপিবির প্রার্থী রাশেদ খান (কাস্তে) মার্কা ।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের স^তন্ত্র প্রার্থী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ (মোটরসাইকেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বায়েজীদ হোসাইন (হাতপাখা), বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী (ধানের শীষ), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আশেক এলাহী (দেয়ালঘড়ি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গোলাম রসুল (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহুরুল হক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী সুকতি কুমার মন্ডল (রকেট) মার্কা।
যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ হালিম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী এনামুল হক (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন (হাতপাখা), বিএনপির প্রার্থী রশীদ আহমদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেন (কলস) মার্কা।
যশোর-৬ কেশবপুর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিএম হাসান (লাঙ্গল), বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ(ধানের শীষ), এবি পার্টির প্রার্থী মাহমুদ হাসান (ঈগল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহিদুল ইসলামের প্রতীক (হাতপাখা) মার্কা।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে যশোর জেলায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যশোরের ৬টি আসনের সকল ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার সাথে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। নির্বাচনে ৮২৪ কেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯ কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন ৮২৪ প্রিজাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৬৭৯ সহপ্রিজাইডিং অফিসার, ৯ হাজার ৩৫৮ পোলিং অফিসার।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে ৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২ হাজার ৫০০ পুলিশ, ১৮০ স্ট্রাইকিং ফোর্স। আনসারের সদস্য ১০ হাজার ৭১২, সেনাবাহিনী ৮০০ ও এয়ারফোর্সের ৫০ সদস্য, ৬টি আসনে র্যাবের পেট্রোল টিম ১২, বিজিবির ১৫ প্লাটুন। নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তিনজন করে পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। দুই শতাধিক স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য থাকবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ১৩জন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। ৭১ জন পুলিশ সদস্যের শরীরে স্থাপন করা থাকবে ক্যামেরা। সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে ওই ক্যামেরায় ধারণকরা ফুটেজ সকল সদস্য দেখতে পারবে। কোথাও কোনো গোলযোগ হলে রিজার্ভ ফোস সেখানে দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছাবে। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট কাজ করবে।
যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আশেক হাসান বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথম শতভাগ ভোটকেন্দ্র নজরদারির আওতায় এসেছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোটকেন্দ্রে স্বশস্ত্র পুলিশ, আনসার, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি বডি ক্যামেরা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যশোর ৬টি আসনে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটের কাজে নিয়োজিত থাকবে ১৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা কর্মচারী। ১১ ডিসেম্বর থেকে ১১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করে যাচ্ছেন, আরও ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা থেকে এসেছে। তারা মঙ্গলবার থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। ৬টি আসনের বিপরীতে ২ জন করে ১২ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবে।