১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৩

চট্টগ্রামে নির্বাচনী ছুটিতে গণপরিবহন সংকট, দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়ায় জিম্মি যাত্রীরা

গণপরিবহনের অপেক্ষায় ঘরমুখো মানুষ  © টিডিসি ফটো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে টানা সাধারণ ও বিশেষ ছুটিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও পিএবি সড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। গণপরিবহন সংকটের সুযোগে সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে চট্টগ্রাম-আনোয়ারা উপজেলামুখী সড়ক ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। এতে সড়কের মোড়ে মোড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে মানুষকে। সরকার ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি নির্বাচনের কারণে পরিবহন চলাচলে সীমাবদ্ধতা থাকায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

সিএনজিযোগে যাতায়াত করা সংবাদকর্মী ইমরান হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষণ কার্ড আনতে চট্টগ্রাম শহরে গিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় স্বাভাবিক ভাড়াই দিয়েছি। কিন্তু ফেরার পথে ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। চালকেরা বলছে, যাবেন তো যান, না গেলে নামেন।’

আরেক যাত্রী আব্দুর রহমান (৬৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোট এলেই সিএনজি চালকেরা এটাকে ঈদের মতো ধরে নেয়। সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।’

দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দেখা যায়, অসংখ্য শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনিরা বলেন, ‘স্কুল ছুটি হয়েছে তিনটায়। এখন সাড়ে তিনটা বাজে, আধা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। দু-একটা গাড়ি এলে তিনগুণ ভাড়া চাইছে।’

আরেক শিক্ষার্থী উম্মে সাফিরুন ইক্বরা জানান, একই অবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে পারছে না।

আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী থেকে সিএনজিযোগে আনোয়ারা সদরের ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন রাসু দাশ। তিনি বলেন, ‘১০ টাকার ভাড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা নিচ্ছে। ভোটের অজুহাতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে।’

তবে চালকদের ভাষ্য ভিন্ন। সিএনজি চালক মো. আরিফ বলেন, ‘ভোটের কারণে কাল থেকে গাড়ি বের করতে পারবো না। পরিবার চালাতে হবে। সবাই নিচ্ছে, তাই আমিও নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে আনোয়ারা ট্রাফিক পুলিশ ইনচার্জ (টিআই) আবুল কালাম আজাদকে একাধিকবার ফোন করেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কর্ণফুলী ট্রাফিক পুলিশ ইনচার্জ (টিআই) আবু বাকার সায়েদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে বাড়তি বিভিন্ন অভিযোগে চারটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। ভোটের কারণে যাত্রীচাপের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’