১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩২

শেষ দিনে মিছিল-গণসংযোগে মুখর ছিল চট্টগ্রাম-১৩

প্রচারণার শেষ মুহূর্তে কর্ণফুলীতে গণমিছিল  © টিডিসি ফটো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন ছিল ব্যস্ত মিছিল, গণসংযোগ আর পথসভায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে সমর্থন চেয়েছেন প্রার্থীরা। সাত প্রার্থী থাকলেও শেষ মুহূর্তে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে তিন প্রার্থীর মধ্যে। তবে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন আরও একজন প্রার্থী।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট। এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। শেষ দিনে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন।

মূল আলোচনায় যারা

এই আসনে আলোচিত প্রার্থীরা হলেন, তিনবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী এবং বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান। তাঁদের সঙ্গে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক মুভমেন্ট (এনডিএম) মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ এমরান চৌধুরী।

এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মু. রেজাউল মুস্তফা, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী ও গণ অধিকার পরিষদের মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

বিএনপির মিছিল-সমাবেশ

প্রচারের শেষ দিনে সোমবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম দুটি পৃথক গণমিছিলের আয়োজন করেন। বিকেল সাড়ে তিনটায় আনোয়ারা উপজেলার কালাবিবির দিঘির মোড় থেকে শুরু হওয়া একটি মিছিল টানেল রোড, চাতরী চৌমুহনী ও ডাকপাড়া হয়ে মিয়ারহাট ও কোরিয়ান ইপিজেড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। একই সময়ে কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার থেকে আরেকটি মিছিল শুরু হয়ে ক্রসিং, ফকিরনীরহাট ও শাহমীরপুর হয়ে দৌলতপুর কেপিজেড গেট পর্যন্ত যায়।

দুটি মিছিল একত্রিত হওয়ার পর সরওয়ার জামাল নিজাম বক্তব্য দেন। তিনি আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত সম্প্রসারণ, মাদক ও সন্ত্রাস দমন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াত প্রার্থীর গণমিছিল ও অভিযোগ

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার ব্রিজঘাট এলাকায় গণমিছিলে অংশ নিয়ে প্রচারণা শেষ করেন। তিনি দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও প্রচার চালান। নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আইটি সেন্টার স্থাপন ও উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। কারা হুমকি দিচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিএনপির দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলেন।

সুন্নি জোটের প্রার্থীর সতর্ক বার্তা

বৃহত্তর সুন্নি জোট ও বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী এস এম শাহজাহান সোমবার বেলা ১১টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার খাদ্য গুদামের সামনে থেকে একটি মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি আনোয়ারা সদর প্রদক্ষিণ করে জয়কালীবাজার হয়ে একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে তিনি চাতরী চৌমুহনী বাজারে গণসংযোগ করেন।

শেষ দিনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর এলাকায় না থাকা অনেকেই ভোটের আগে এসে গল্প শোনাচ্ছেন। করোনার মতো দুর্যোগে আমরা জনগণের পাশে ছিলাম।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আরেক পক্ষ মুখে মধু, অন্তরে বিষ নিয়ে কথা বলছে। এই দুই পক্ষ থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।’

এনডিএম প্রার্থীর গণসংযোগ

জাতীয় গণতান্ত্রিক মুভমেন্ট (এনডিএম) মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ এমরান চৌধুরী আনোয়ারা সদরের আব্দুল জলিল সড়ক থেকে গণসংযোগ শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে বিকেলে কার্যক্রম শেষ করেন।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান

মুঠোফোনে মন্তব্য জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ, দেশে চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য চলবে না। নির্বাচনের পর দলের কেউ চাঁদাবাজি বা দখলবাজিতে জড়ালে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রশাসনের প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, 'অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন এবং কোনো বিশৃঙ্খলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

প্রসঙ্গত, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭ হাজার ৭১৪ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩২ জন।