জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী সেলিমকে ঠেকাতে মরিয়া বিএনপির এমরান
জাতীয় সংসদের ২৩৪ নং আসন সিলেট-৬। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত পাঁচ লক্ষাধিক ভোটারের মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে ছড়িয়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। প্রচার-প্রচারণায় মুখর দুটি উপজেলার সর্বত্র চলছে ভোটের বিশ্লেষণ। রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রার্থীদের ব্যানার, মাইকিং আর গণসংযোগে নির্বাচনী ময়দানে ব্যস্ততা দেখা গেছে। মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঠে তুমুল আলোচনায় রয়েছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
সিলেটের ৬ আসনের মধ্যে ৩টি আসনে নির্বাচন করছে জামায়াত বাকি গুলো ছাড় দিয়েছে জোট শরিকদের। এর মধ্যে সিলেট- ৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে জামায়াত। জামায়াত নেতাদের মতে, এই আসনে নিশ্চিত বিজয়ের পথে এগুচ্ছে তারা। দলের হেভিওয়েট প্রার্থী সেলিম উদ্দিন রয়েছেন সর্বত্র আলোচনায়।
তাছাড়া, বর্তমানে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এখানে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। জানা গেছে, শুরুতে এ আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমানের প্রার্থীতার প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও দলের সিদ্ধান্তে তিনি সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হন।
সাংগঠনিকভাবে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা সেলিম উদ্দিন ছাত্র রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন বড় পরিসরে। ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন তিনি। তার কৌশলী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ ভোট যুদ্ধে বেশ সাড়া ফেলেছে।
এছাড়া এ আসনের দুটি উপজেলাতেই জামায়াতের শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান থাকায় আসনটিকে বড় সম্ভাবনা হিসেবেই গণনা করছে জামায়াত।
অন্যদিকে, বিএনপি ও জমিয়ত জোট সমর্থিত প্রার্থী সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিলেট জেলা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
শুরুতে এই আসনে বিএনপি দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেও শেষ পর্যন্ত এমরানকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল তেমন সুখকর নয়। তাই এবার আসনটিতে জয় নিশ্চিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দলটি।
ইতোমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্য প্রার্থীরা ধানের শীষের বিজয়ে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের মন জয়ে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন এমরান।
জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, মান অভিমান ভুলে দলের সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এমরান চৌধুরীর জন্য মাঠে নেমেছেন। এরপর থেকে ধানের শীষের পক্ষে জনরায় আসতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত এ আসনের জনগণ এমরান চৌধুরীর প্রতিই আস্থা রাখবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে কার হাতে উঠতে যাচ্ছে এ অঞ্চলের জনগণের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব- এমন কৌতুহল সিলেট জুড়ে।
গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা হেমায়েত হোসেন জানান, সেলিম উদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় কাজ করছেন। বিভিন্ন উন্নয়ন বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার অনেক অবদান রয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় চমকপ্রদ চিন্তাভাবনা তাকে ভোটের মাঠে এগিয়ে রেখেছে।
বিয়ানীবাজার মাথিউরার বাসিন্দা ফ্রিল্যান্সার ফয়সল জানান, এমরান চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় থেকেই রাজনীতি করেছেন। তাই এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করা ও তার সমাধান বাস্তবায়নে তিনি কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে মনে করি।