০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৬

‘সারপ্রাইজ সার্কুলার’ যেন আর দেওয়া না হয়: ইসিকে ১১ দল

বৈঠক শেষে ১১ দলের ব্রিফিং  © সংগৃহীত

মানুষকে আতঙ্কিত করতে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মত ‘সারপ্রাইজ সার্কুলার’ যেন আর না দেওয়া হয় বলে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ে ইসি কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত ইসির প্রজ্ঞাপনে জাতির মধ্যে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসন ও প্রজ্ঞাপন বাতিলসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করতে তারা এই সাক্ষাৎ করেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, হঠাৎ করে সার্কুলার দেখতে পেলাম যে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। এর মধ্যে সাংবাদিক, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত। এতে সবার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এটা কেন? ভোট ডাকাতির উদ্দেশ্য আছে কিনা? এ অস্থিরতা থেকেই এসেছি। উনারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন এটা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুতই জানানো হবে।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে এ ধরণের সারপ্রাইজ সার্কুলার আর দেওয়া না হয়। মানুষ যেন আতঙ্কের মধ্যে পড়ে না যায়। প্রজ্ঞা ও বাস্তবতার সঙ্গে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া ইন্টারনেট স্লো করে দেওয়া হবে এ ধরণের একটা কথা বাজারে চালু আছে। তারা এ বিষয়েও আশ্বস্ত করেছেন।

নির্বাচনী নিরাপত্তায় বিএনসিসি মোতায়েনের বিষয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এ ব্যাপারে উনারা (ইসি) বলেছেন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন জানিয়েছেন, তবে এ বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কথা বলেছি। নির্দিষ্ট করে অনেক কর্মকর্তার বিষয়ে আমরা বলেছি। উনারা মনিটর করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ আসন, জাতীয় নেতৃবৃন্দের আসনসহ নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে এমন আসনগুলো নিয়ে আমরা কনসার্ন জানিয়েছি। গ্রহণযোগ্য উৎসব নিশ্চিতে এ বিষয়ে যেন উনারা পদক্ষেপ নিবেন। এ ছাড়া গণমাধ্যম যেন নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, তাদেরকে নাজেহাল করা না হয় এ ব্যাপারে আমরা গুরুত্বের সাথে বলেছি।

অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, শিক্ষা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, এলডিপির নেতা প্রিন্সিপাল মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল আলম ভূইয়া, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার সিরাজুল ইসলাম ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নেতা নজরুল ইসলাম বাবু।