১৭ বছর গরু-ছাগলেরও মূল্য ছিল, জামায়াত কর্মীদের ছিল না: জামায়াত প্রার্থী
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান গত দেড় যুগের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গরু-ছাগল ও পশু-পাখির নিরাপত্তা ও মূল্য থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কোনো মূল্য বা নিরাপত্তা ছিল না।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে ইউনিয়ন জামায়াতের আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ তোলেন। তার বক্তব্যে গত এক যুগের বেশি সময়ের দমন-পীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে।
অধ্যাপক মাজেদুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, গত ১৭ বছর ছিল জামায়াতের জন্য অন্ধকার সময়। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্ল্যান্টেড দমন-পীড়নের মুখে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মানুষ হিসেবে গণ্য করা হতো না। তার ভাষায়, ‘গরু-ছাগল নির্বিঘ্নে বাড়িতে ঘুমাতে পারত, অথচ আমরা মানুষ হয়েও এক মিনিটের জন্য বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। আমাদের বনে-জঙ্গলে, ভুট্টাক্ষেতে অথবা নির্জন স্থানে রাত কাটাতে হয়েছে। দিনের পর দিন পুলিশ আসার, গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কেটেছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময়ে দেশে ভোটাধিকার হরণ, ব্যাংক লুট, টাকা পাচার ও সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় সম্পদ কুক্ষিগত করেছে এবং জনগণকে দাসে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার মতে, তখন ভোট বা নির্বাচন নামমাত্র ছিল, দিনের ভোট রাতে দেওয়া হতো এবং মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার কার্যত লুপ্ত ছিল।
বর্তমান নির্বাচনকে জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে মাজেদুর রহমান ভোটারদের কাছে সৎ, আল্লাহ ভীরু ও জুলুমবিরোধী নেতৃত্বকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, এমন নেতৃত্বই কেবল দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের পর দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।
এ সময় বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাফেজ সফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম বাবুসহ জোটের অন্যান্য দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামী এবং তার নেতা-কর্মীদের ওপর গত কয়েক বছর ধরে আইনি ও প্রশাসনিক নানা চাপ ও বিচারিক মামলা রয়েছে।