০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৭

কোনটিতে ধানের শীষ, কোনটিতে দাঁড়িপাল্লা—গুগল ট্রেন্ডসে কোন বিভাগে কোন প্রতীক এগিয়ে?

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি ফটো

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাংলাদেশ দাঁড়িপাল্লা অংশ নেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি শাপলা কলি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামছে। এছাড়া জাতীয় পার্টি লাঙ্গল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ গরুর গাড়ি এবং গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। একই সঙ্গে কয়েকজন প্রার্থী নিজ নিজ দলের প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, অনলাইনে রাজনৈতিক প্রতীক ঘিরে আগ্রহের চিত্র ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গুগল ট্রেন্ডসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাত বিভাগের (ঢাকা-ময়মনসিংহ) প্রতিটিতেই প্রতীকের জনপ্রিয়তায় রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ধারা। ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে গুগল সার্চে শীর্ষে রয়েছে ধানের শীষ, অন্যদিকে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রংপুর বিভাগে এগিয়ে দাঁড়িপাল্লা। বরিশালে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেলেও অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সেখানে হাতপাখার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। পাশাপাশি রংপুর বিভাগে এনসিপির প্রতীক শাপলা কলিও অন্য বিভাগের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।

গত ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরুর পর থেকে আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক নিয়ে গুগল ট্রেন্ডসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানতে পেরেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।

ঢাকা: গুগল ট্রেন্ডসে ঢাকা বিভাগের আওতাভুক্ত আগের জেলাগুলো ধরে সাত বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে (ঢাকা–ময়মনসিংহ) গুগল সার্চের হিসাবে ধানের শীষে ৪৪ শতাংশ, দাঁড়িপাল্লায় ৪২ শতাংশ, হাতপাখায় ৯ শতাংশ এবং শাপলা কলিতে ৫ শতাংশ আগ্রহ দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিভাগে গুগল সার্চে ৪৬ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে দাঁড়িপাল্লা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ধানের শীষে ৪১ শতাংশ আগ্রহ দেখা গেছে। এ ছাড়া হাতপাখায় ৯ শতাংশ এবং শাপলা কলিতে ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী সার্চ করেছে।

বরিশাল: বরিশাল বিভাগে গুগল সার্চে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে হাতপাখা। এ বিভাগের অন্য প্রতীকগুলোর তুলনায় হাতপাখা ভালো অবস্থানে থাকলেও এর সার্চ হার ২১ শতাংশ। ধানের শীষ ৩৮ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। খুব কাছাকাছি অবস্থানে দাঁড়িপাল্লায় ৩৭ শতাংশ আগ্রহ দেখা গেছে। পাশাপাশি শাপলা কলিতে ৪ শতাংশ সার্চ লক্ষ্য করা গেছে।

রাজশাহী: রাজশাহী বিভাগে গুগল সার্চে ৪৭ শতাংশ নিয়ে ধানের শীষ শীর্ষে রয়েছে। খুব কাছাকাছি অবস্থানে দাঁড়িপাল্লায় ৪৫ শতাংশ আগ্রহ দেখা গেছে। এ ছাড়া হাতপাখায় ৬ শতাংশ এবং শাপলা কলিতে ২ শতাংশ সার্চ লক্ষ্য করা গেছে।

খুলনা: খুলনা বিভাগে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লার অবস্থান বেশি শক্ত। এখানে ৫১ শতাংশ ব্যবহারকারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সার্চ করেছেন। ধানের শীষে ৩৯ শতাংশ আগ্রহ দেখা গেছে। পাশাপাশি হাতপাখায় ৮ শতাংশ এবং শাপলা কলিতে ২ শতাংশ সার্চ হয়েছে।

রংপুর: রংপুর বিভাগে গুগল সার্চে দাঁড়িপাল্লার অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো। এ বিভাগে ৪৪ শতাংশ ব্যবহারকারী দাঁড়িপাল্লা লিখে অনুসন্ধান করেছেন। খুব কাছাকাছি অবস্থানে ধানের শীষে ৪২ শতাংশ আগ্রহ দেখা গেছে। এ ছাড়া শাপলা কলি ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা—উভয় প্রতীকেই ৭ শতাংশ করে সার্চ হয়েছে।

সিলেট: সিলেট বিভাগে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ধানের শীষের প্রতি আগ্রহ বেশি। এখানে গুগল সার্চে ৪৯ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে এই প্রতীক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লায় ৪৫ শতাংশ সার্চ লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি শাপলা কলিতে ২ শতাংশ এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় ৪ শতাংশ সার্চ হয়েছে।

সব বিভাগ একত্রে বিবেচনায় নিলে, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে গুগল ট্রেন্ডসে প্রতীকভিত্তিক সার্চে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিএনপির ধানের শীষ। এর খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রতি সার্চ আগ্রহ জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। গুগল ট্রেন্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের গড় সার্চ আগ্রহ ৭০ শতাংশ, দাঁড়িপাল্লার ৬৮ শতাংশ। পাশাপাশি হাতপাখার গড় আগ্রহ ১৬ শতাংশ এবং শাপলা কলির ৭ শতাংশ।

অন্যদিকে দল হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পরবর্তী এক সপ্তাহের তুলনায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আগের সাত দিনে গুগল ট্রেন্ডসে বাংলাদেশ থেকে সার্চ করা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপির ইন্টারেস্ট রেট কমেছে। ইসলামী আন্দোলনের ইন্টারেস্ট রেট ৫ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে এনসিপির ইন্টারেস্ট রেট ১৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১৩ শতাংশ।

বিএনপি ও জামায়াতের ক্ষেত্রে সার্চ ইন্টারেস্ট বেড়েছে। জামায়াতের ইন্টারেস্ট রেট ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে। আর বিএনপির ইন্টারেস্ট রেট ৮৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৮৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।