লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন আকাশে যাবে: জেএসডির বেলাল
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর মুখপাত্র ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেছেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে না। তিনি বলেন, অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন ‘আকাশে যাবে’। একই সঙ্গে জলদস্যু ও স্থল দস্যুদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সৈয়দ বেলাল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতির দক্ষিণাঞ্চল মেঘনার উপকূলীয় এলাকায় নির্বাচনকালীন স্থায়ী সেনাক্যাম্প স্থাপন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান।
জেএসডির এই নেতা অভিযোগ করেন, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি–কমলনগর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজাম জলদস্যুদের একত্রিত করে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তিনি নিয়মিতভাবে তাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। বয়ারচরের ডাকাতদের নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং হাতিয়া এলাকার ডাকাতদের ভাড়া করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব দস্যুরা প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করছে, ফলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জেএসডির প্রার্থী দলের সহসভাপতি তানিয়া রব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সৈয়দ বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, ওই আসনের চরাঞ্চলগুলোতে প্রায় এক লাখ ভোটার রয়েছেন। এসব এলাকায় জলদস্যু ও স্থল দস্যুদের সমন্বয়ে গঠিত অস্ত্রধারী চক্র ব্যালট পেপার ও ভোটের বাক্স লুটের পরিকল্পনা করছে। এ কারণে চর রমিজ, বড়খেরী ও চরগাজী ইউনিয়নে স্থায়ী সেনাক্যাম্প স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৮ জানুয়ারি রামদয়াল বাজারে জেএসডির নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। ফলে ভোটারদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেএসডির জেলা সভাপতি অধ্যাপক মনছুরুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।