জামায়াত এই দেশকে মধ্যযুগে নিয়ে যেতে চায়: ফজলুর রহমান
জামায়াত এই দেশকে মধ্যযুগে নিয়ে যেতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্য ও সিনিয়র এডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
তিনি বলেছেন, এখন দেশের যে অবস্থা, এটা কোন দেশ না। এটা হলো রাজাকার-আলবদরের দেশ। এই দেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, যে মহিলারা বাহিরে কাজ করে- ডাক্তার, মাস্টার, প্রফেসর, নার্স, গার্মেন্ট কর্মী, এরা হচ্ছে বেশ্যা। শফিকুর রহমানরা বলে কি? এই দেশটাকে কি মধ্যযুগে নিয়ে যাবেন? আপনার বাড়িতে মৌলভি হবে- আমার আপত্তি নেই। মৌলভি হোক একজন। ডাক্তার লাগবো না, বুক ব্যথা করলে ডাক্তারের কাছে কেন যান? মৌলভির কাছে তো যান না। তারা তো বিজ্ঞানকে স্বীকার করে না। তারা আবার লিখে ব্যারিস্টার, ডাক্তার অমুক তমুক। এরা তো কিছুই না। কালকে বাবুনগরী এবং বায়তুল মোকাররমের ইমাম বলছেন যে এই পৃথিবীতে সবচেয়ে মুনাফেক দলের নাম হচ্ছে জামায়াত। আর ভারতের সেই সবচেয়ে বড় যে মাদ্রাসা দেওবন্দ ও ভারতের সবচেয়ে বড় মসজিদ দিল্লির লালকেল্লা তারা বলছে যে পৃথিবীতে অনেক ধর্মীয় দল আছে কিন্তু জামায়াতের মতো মুনাফেক দল আর নাই।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মিঠামইন বাজারের বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় ফজলুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তারা বোরকা পরে গিয়ে একটা চকলেট দেয় বাচ্চাদেরকে আর বউরারে একটা কানপাশা দেয়। আসার সময় বলে ভোটটা দিয়েন বেহেশতের টিকেটটা কালকে দিয়ে যাবো নে। বেহেশতের টিকেট যে দিতে পারে সে শিরক গুনাহ করে। কারণ বেহেশত দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহর সাথে যে তুলনা করে সেই শিরক গুনাহর কোন মাফ নাই। এখন আবার বলে, না টিকেট দেওয়া যাবে না এইটা একটু শর্ট পড়ে গেছে, এখন সবাইকে হজ্বে নিতে চায়। একবার হজ্বে গেলে ছয় লাখ টাকা লাগে। এইসব ধরণের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে রাজাকারের বাচ্চাদের ভোট দিবেন না।
ফজলুর রহমান বলেন, এরা মহাপাপী, এরা ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে, এরা দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জত নিয়েছে, এরা সোনার বাংলা পুড়ে ছারখার করেছে, এদের জন্য এই দেশে পাকিস্তানিরা নয়মাস যুদ্ধ করেছে দেশটাকে বিরান করে দিয়েছে। আর আমাদের মতো তেইশ বছরের যুবকেরা যুদ্ধে গিয়েছে। আমি যখন যুদ্ধে যাই তখন অবস্থাটা এমন ছিল দেশ থেকে যুদ্ধে যাওয়া সম্ভব না। যে কোন সময়ে জামায়াত আমাদেরকে ধরিয়ে দিতে পারে।
ফজলুর রহমান বলেন, এই দেশে আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ হবে। পৃথিবীর রাজনীতিতে পাকিস্তান, তুরষ্ক, ইরান এই মুসলিম দেশগুলো চায় না বাংলাদেশ নামে কোন দেশ থাকুক। এরা হাজার হাজার কোটি ডলার-রিয়াল-পাউন্ড জামায়াত ইসলামীকে স্বাধীনতা বিরোধীদেরকে জঙ্গিদেরকে দেয়। একেকটা জঙ্গি ছেলে এখন জাতীয় নেতা হয়ে বসে আছে। মির্জা আব্বাসকে গালি দেয়। যারা জাতীয় নেতা হয়ে বসে আছে ইউনূসের সাথে বসে মিটিং করে। এইসব লোকজন এদের বাড়ি কই, এদের বাপের নাম কি? জন্মের পরিচয় কি এদের? কেউ বাড়ি থেকে দাঁড়ায় না কারণ বাড়িতে গেলে মানুষ কানে ধরে টান দিবো। ঢাকা নেতা হয়ে ঢাকায় দাড়িয়ে গেছে এইটা তো বাড়ির মানুষ জানে না। এইসব গরু চোরের দল, জুতা চোরের দলেরা এখন বাংলাদেশের নেতা।
ফজলুর রহমান বলেন, এইসব রাজাকার আলবদর জঙ্গির দল নির্বাচনে পারবে না। আল্লাহর রহমত হিসেবে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। আল্লাহর রহমতে তারেক রহমান হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ইটনা মিঠামইন অষ্টগ্রামের মানুষ আপনারা যদি দয়া করে আপনাদের অধম সন্তান ফজলুর রহমানকে ভোট দেন, তাহলে ফজলুর রহমান হবে এমপি। ২৪০টার উপরে সীট পাবে বিএনপি। কিন্তু চক্রান্ত বড় কঠিন এবং গভীরে। সেই চক্রান্ত যেই করুক কেউ যদি ভোট লুট করতে আসে আপনারা ছেড়ে দিবেন না।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশনা দিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ফলাফল নিয়ে মিছিল করে বাড়িতে আসবেন। যদি কেউ বলে বাড়িতে চলে যাও, ভোট গণনা হবে দুইদিন পরে রেজাল্ট, এইসব কথা শুনতে যাবেন না। যা করার প্রয়োজন তাই করবেন। আমি ফজলুর রহমান জীবন দিয়ে দিবো। কাউকে ভয় পাইয়েন না। কয়টা জামায়াতে ইসলামী আছে গন্ডায় গন্ডায় গুনলে তিন গন্ডা হয় না একটা ইউনিয়নে। এরা ভোট লুট কইরা ফেলবে, ভোট নিয়ে যাবে, একটা রিভালবার দেখালেই দৌড়ে চলে যাবেন, একদম ঢুকায়া দিবেন যদি কেউ রিভলবার দেখায়। যদি এইটা করতে পারেন তাইলে আল্লাহ আপনাদেরকে ক্ষমতায় নিবে।
ফজলুর রহমান বলেন, আমরা যে নির্বাচনটা করছি, আমি যে কথাটা এক বছর আগে বলেছিলাম যে কথাটা বলার জন্য ছয় মাস দল আমাকে কিছুটা শাস্তি দিয়েছিলো। কিন্তু ছয়মাস পরে দল বুঝেছে, সারাদেশ বুঝেছে যে ফজলুর রহমান যে কথাটা বলতো জামায়াত হল আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু এই কথাটাই সত্য। সেই যে জামায়াত শত্রু এরা কত বড় চক্রান্তকারী আপনারা বুঝতে পারবেন না। মওদুদী থেকে গোলাম আযম পর্যন্ত এদের বই পড়েন, এরা মুসলমান না, হিন্দু না, বৌদ্ধ না, খ্রিস্টান না এরা হইলো মুনাফেক। এরা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না, এদের কোন ঈমান নাই। এমন কোন বাজে কাজ নাই যে এরা করতে পারে না। আমি আজকে বলে গেলাম, এই জামায়াতকে যদি থামাইতে হয়, তাদের অপকর্ম থেকে যদি তাদেরকে আস্তাকুঁড়ের ড্রেনে পাঠাইতে হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত শক্তিকে এক হইতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, এই দেশকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, শিক্ষা-দীক্ষায়, চিন্তায়-চেতনায়, সংস্কৃতিতে একটা আধুনিক দেশ বানাতে হবে। এই দেশটা হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের একটা দেশ। কারণ হিন্দু এবং মুসলমান বাঙালি জাতির দুইটা হাত। একটা হাত কেটে দিলে যেমন আরেকটা হাত কাজ করে না। ঠিক তেমনি হিন্দু যদি না থাকে এইখানে মুসলমানের সংস্কৃতি থাকবে না, হিন্দুর সংস্কৃতি থাকবে না। সন্ধ্যা বেলায় যদি ঢোলের বাড়ি না শুনেন এইটা যেমন ভালো লাগবে না, সকালবেলা আযানের ধ্বনি না শুনলে সেটাও ভালো লাগবে না। হিন্দু মুসলমান আমরা বসবাস করবো একসাথে, কেউ কারো গায়ে হাত দেব না।
মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী এডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম মিয়া, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য আলমগীর শিকদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ভিপি বাহার মিয়া, মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দিন রুবেল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাফিজুল্লাহ হীরা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য তাফসির খান, ফজলুর রহমানের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার অভিক রহমান এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।