০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৫

মামুনুল-ববি হাজ্জাজের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার আভাস

ববি হাজ্জাজ ও মাওলানা মামুনুল হক  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক ও বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া গেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ হলেও একটি জরিপে অংশ নেওয়া ভোটাররা বলছেন, ৩৬.৮ শতাংশ ভোট দিতে চান বিএনপির প্রার্থীকে। তবে প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক, তাকে ভোট চান ৩৪ শতাংশ ভোটার।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও এডভোকেসি সংস্থা সোচ্চার- টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের করা ৪ দলীয় প্রধানের আসনের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমদ এর ফলাফল প্রকাশ করেন। এ সময় ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১১ আসনের জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ড. শিব্বির আহমদ জানান, জরিপে ঢাকা-১৩ আসনের ৬০৬ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৫৩.৫ শতাংশ পুরুষ ও ৪৬.৫ শতাংশ নারী। ভোটাররা বলছেন, ৩৬.৮ শতাংশই ববি হাজ্জাজকে ভোট দিতে চান, আর মাওলানা মামুনুল হককে ভোট দিতে চান ৩৪ শতাংশ ভোটার। এ ছাড়া ১৫.৮ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন এবং ১০.১ শতাংশ সিদ্ধান্ত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরকে ভোট দিতে চান ৩৯.৫% ভোটার, মিল্টনকে কত?

জরিপের তথ্য বলছে, পুরুষদের মধ্যে দুই প্রার্থীর সমর্থন প্রায় সমানে সমান। ববি হাজ্জাজকে ৩৭ শতাংশ ভোটার সমর্থন করলে মামুনুল হককে সমর্থন করেন ৩৫.৫ শতাংশ পুরুষ। নারীদের ক্ষেত্রে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী, সমর্থন ৩৬.৫ শতাংশ; আর ১১ দলের প্রার্থীর ক্ষেত্রে সেটি ৩২.৩ শতাংশ।

বয়সের ভিত্তিতে জরিপের তথ্য বলছে, ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ছাড়া অন্য বয়সের ভোটারদের মধ্যে ববি হাজ্জাজের সমর্থন বেশি। এর মধ্যে ১৮-২৫ বয়সীদের ৩৪ শতাংশ, ২৬-৩৫ বয়সীদের ৩৮ শতাংশ, ৩৬-৪৫ বয়সীদের ৩৬ শতাংশ, ৪৬-৫৫ বয়সীদের ৪০ শতাংশ এবং ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৩৪ শতাংশ ববি হাজ্জাজকে ভোট দেবেন। বিপরীতে মামুনুল হকের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২৯ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ৩৯ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ এবং ২২ শতাংশ সমর্থন রয়েছে।

এ ছাড়া উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে মামুনুল হকের সমর্থন বেশি থাকলেও অন্যান্যদের ক্ষেত্রে ববি হাজ্জাজের সমর্থন বেশি দেখা গেছে। প্রাথমিকের গণ্ডি না পেরোনোদের ৩৮ শতাংশ, এইচএসসি ও সমমান শিক্ষিতদের ৪২ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষিতদের ৩৫ শতাংশ মামুনুল হককে ভোট দেবেন। এ তিন ক্ষেত্রে ববি হাজ্জাজ ভোট পাবেন যথাক্রমে ২০, ২৮ ও ৩৩ শতাংশ। অপরদিকে অশিক্ষিতদের ৫০ শতাংশ ও মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষিতদের ৪৪ শতাংশ ববি হাজ্জাজ এবং যথাক্রমে ২২ ও ৩৪ শতাংশ ভোট মামুনুল হক পাবেন।

আরও পড়ুন: ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমান-খালিদুজ্জামান হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে গৃহিণীদের ৪০ শতাংশ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৪০, শিক্ষার্থীদের ২৯, বেসরকারি চাকরিজীবীদের ৩৮, অন্যান্য পেশাজীবীদের ৩২, শ্রমিকদের ৪৭, বেকারদের ১৯, ব্যবসায়ীদের ৩৭, সরকারি চাকরিজীবীদের ৪০, শিক্ষকদের ১৭ এবং কৃষকদের ৫০ শতাংশ ভোট পাবেন ববি হাজ্জাজ। এক্ষেত্রে মামুনুল হক ভোট পাবেন যথাক্রমে ৩২, ৩৪, ৩৩, ৩৭, ৩০, ৪৭, ১৬, ৩৩, ৪০, ৪২ ও ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে মামুনুল হকের জনপ্রিয়তা বেশি, আর শ্রমিক, সরকারি চাকরিজীবী ও কৃষকদের মধ্যে উভয়ের ভোট সমান সমান।

কোন প্রার্থী জয়ী হবেন এমন প্রশ্নের জবাবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪২.৬ শতাংশ বলছেন, ববি হাজ্জাজ এ আসনে বিজয়ী হবেন, যেখানে মামুনুল হকের সম্ভাবনা দেখছেন ৩৯.৬ শতাংশ। এক্ষেত্রে পুরুষদের মধ্যে ৪৪.৮ শতাংশ ববি হাজ্জাজ ও ৩৮.৬ শতাংশ মনে করেন মামুনুল হক বিজয়ী হবেন। নারীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় সমান সমান। ৪০.৮ শতাংশ মনে করেন ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হবেন, আর মামুনুল হক বিজয়ী হবেন বলে মনে করেন ৪০.১ শতাংশ নারী।

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ড. শিব্বির আহমদ বলেন, ইতিপূর্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে আমরা জরিপ করেছিলাম। আমাদের জরিপগুলো প্রকৃত ফলাফলকে প্রিসাইজলি প্রজেকশন করতে পেরেছে। সর্বশেষ যে নির্বাচনটি হয়েছে, জকসু নির্বাচনেও আমাদের সোচ্চারের রেজাল্ট প্রায় ৯৭ ভাগ প্রকৃত ফলাফলকে ব্যাখ্যা করতে পেরেছে। ফলে আমরা আজকে যে ফলাফলগুলো শেয়ার করছি, এটা প্রকৃত ফলাফলকে বুঝতে সহায়তা করবে।

তিনি জানান, চারটি আসনে সর্বমোট ২২৪১ জনের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে ৫১৫ ও ঢাকা-১৫ আসনে ৫১৪ এবং ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১১ আসনে ৬০৬ জন করে স্যাম্পল নেওয়া হয়। এর মধ্যে পুরুষ ৫৩ এবং নারী ৪৬ শতাংশ। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এতে ওয়ার্ড ও লিঙ্গভিত্তিক স্টাডিফাইড স্যাম্পল করেছি। বয়সের ক্ষেত্রে সব বয়সের রেসপন্ডেন্টদেরকে আমরা কাভার করেছি। সব ধরনের এডুকেশন কোয়ালিফিকেশনের লোকজনই অংশ নিয়েছেন। আয়ের দিক থেকেও বিভিন্ন ঘরানার মানুষ ছিলেন। আর প্রায় ৫ শতাংশ অমুসলিম। ৮২ জন হিন্দু অংশগ্রহণকারী ছিলেন, বাকিরা মুসলিম এবং পাঁচজন অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। তিনি জানান, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯১ শতাংশ বলেছেন তারা ভোট দেবেন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৩ শতাংশ এবং নারী ৮৮ শতাংশ। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেশি দেখা গিয়েছে।