০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৪

জামায়াত আমিরকে ভোট দিতে চান ৩৯.৫% ভোটার, মিল্টনকে কত?

ডা. শফিকুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম মিল্টন  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ভোট দিতে চান ৩৯.৫ শতাংশ ভোটার। বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে ভোট দিতে চান ভোটারদের ৩০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও এডভোকেসি সংস্থা সোচ্চার- টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের করা ৪ দলীয় প্রধানের আসনের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমদ এর ফলাফল প্রকাশ করেন। এ সময় ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১১ আসনের জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ড. শিব্বির আহমদ জানান, ঢাকা-১৫ আসনের জরিপে মোট ৫১৪ জন অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৯.১ শতাংশ এবং নারী ৪০.৯ শতাংশ। ভোটারদের ৩৯.৫ শতাংশই বলছেন, তারা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ভোট দেবেন। এর মধ্যে পুরুষ রয়েছেন ৪০.৫ শতাংশ। আর নারীদের ৩৮.১ শতাংশ জামায়াত আমিরকে ভোট দিতে চেয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ২৬ শতাংশ পুরুষ ও ৩৫.৭ শতাংশ রয়েছেন নারী।

জরিপের তথ্য বলছে, এ আসনের ১৪.৪ শতাংশ ভোটার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, আর ১২.১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মতামত জানাতে অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া ৩.৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন তারা ভোট দেবেন না।

জরিপ বলছে, সকল বয়সের ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াত আমির। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের ৩৬ শতাংশ, ২৬ থেকে ৩৫ বছরের ৩৯ শতাংশ, ৩৬ থেকে ৪৫ বছরের ৪৩ শতাংশ, ৪৬ থেকে ৫৫ বছরের ৩৫ শতাংশ এবং ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৪১ শতাংশই জামায়াত আমিরকে ভোট দিতে চান। যেখানে মিল্টনকে যথাক্রমে ১৮, ৩৬, ৩২, ২৩ ও ২৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে চেয়েছেন।

আরও পড়ুন: ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমান-খালিদুজ্জামান হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

শিক্ষা বিবেনায়ও সব দিকে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াত আমির। শিক্ষাবঞ্চিতদের ৪৩ শতাংশ, পঞ্চম শ্রেণি বা তার কম পড়াদের ৩৭ শতাংশ, এসএসসি পর্যন্ত পড়াদের ৩৭ শতাংশ, এইচএসসি ও সমমান পড়াদের ৩৭ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষিতদের ৪২ শতাংশই জামায়াত আমিরকে ভোট দেবেন। পেশাগত ক্ষেত্রে গৃহিণীদের ৪৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৩৮ শতাংশ, বেসরকারি চাকরিজীবীদের ৫০ শতাংশ, শ্রমিকদের ৪০ শতাংশ, শিক্ষার্থীদের ২৫ শতাংশ, অন্যান্য পেশাজীবীদের ১০ শতাংশ, বেকারদের ৪১ শতাংশ, সরকারি চাকরিজীবীদের ৪৬ শতাংশ, বড় ব্যবসায়ীদের ৪৮ এবং শিক্ষকদের ২২ শতাংশই জামায়াত আমিরকে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কোন প্রার্থী বিজয়ী হবেন এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা-১৫ আসনের ভোটারদের ৪৯.২ শতাংশই বলছেন জামায়াত আমির জিতে আসবেন। আর ৩২.৫ শতাংশ মনে করেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন বিজয়ী হবেন। এর মধ্যে পুরুষদের ৪৯ এবং নারীদের ৪৯.৫ শতাংশ মনে করেন জামায়াত আমির জয়ী হচ্ছেন।

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ড. শিব্বির আহমদ বলেন, ইতিপূর্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে আমরা জরিপ করেছিলাম। আমাদের জরিপগুলো প্রকৃত ফলাফলকে প্রিসাইজলি প্রজেকশন করতে পেরেছে। সর্বশেষ যে নির্বাচনটি হয়েছে, জকসু নির্বাচনেও আমাদের সোচ্চারের রেজাল্ট প্রায় ৯৭ ভাগ প্রকৃত ফলাফলকে ব্যাখ্যা করতে পেরেছে। ফলে আমরা আজকে যে ফলাফলগুলো শেয়ার করছি, এটা প্রকৃত ফলাফলকে বুঝতে সহায়তা করবে।

তিনি জানান, চারটি আসনে সর্বমোট ২২৪১ জনের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে ৫১৫ ও ঢাকা-১৫ আসনে ৫১৪ এবং ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১১ আসনে ৬০৬ জন করে স্যাম্পল নেওয়া হয়। এর মধ্যে পুরুষ ৫৩ এবং নারী ৪৬ শতাংশ। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এতে ওয়ার্ড ও লিঙ্গভিত্তিক স্টাডিফাইড স্যাম্পল করেছি। বয়সের ক্ষেত্রে সব বয়সের রেসপন্ডেন্টদেরকে আমরা কাভার করেছি। সব ধরনের এডুকেশন কোয়ালিফিকেশনের লোকজনই অংশ নিয়েছেন। আয়ের দিক থেকেও বিভিন্ন ঘরানার মানুষ ছিলেন। আর প্রায় ৫ শতাংশ অমুসলিম। ৮২ জন হিন্দু অংশগ্রহণকারী ছিলেন, বাকিরা মুসলিম এবং পাঁচজন অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। তিনি জানান, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯১ শতাংশ বলেছেন তারা ভোট দেবেন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৩ শতাংশ এবং নারী ৮৮ শতাংশ। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেশি দেখা গিয়েছে।