০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭

নেত্রকোনায় ৫ আসনের দুটিতে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

নেত্রকোনায় ৫টি আসনে প্রার্থীরা  © সংগৃহীত

নেত্রকোনা জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে বিজয় নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি, আর জামায়াতে ইসলামীও মাঠে সক্রিয়। তারা চায় অন্তত একটি আসন হলেও বিজয়ী হতে। তবে দুটি আসনে  বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে, নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলায় জমে উঠেছে নির্বাচনী উত্তাপ আর ভোটের হাওয়া। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সরগরম তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ভোট দিতে না পারা ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বারবার নির্বাচিত হলেও অদ্যাবধি জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী জেলার কোনো আসনে একবারও নির্বাচিত হতে পারেনি। এ অবস্থায় নেত্রকোণা জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে বিজয় নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি, আর জামায়াতে ইসলামী চায় অন্তত একটি আসনে বিজয়ী হতে। একটি আসনে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এ আসনে নির্বাচনী উত্তাপের পাশাপাশি ব্যাপক সহিংসতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কার মুখে বিজয়ের হাসি ফুটবে, তার জন্য চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে সাধারণ ভোটার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) গারো, হাজং ও বাঙালি অধ্যুষিত ভারতীয় সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোণা-১ আসন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১ শত ৮২ জন। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী (সাবেক এমপি, জাতীয় পার্টি) গোলাম রব্বানী। এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হচ্ছে, জাতীয় পার্টির মো. আনোয়ার হোসেন খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. আলকাছ উদ্দিন মীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল মান্নান সোহাগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মো. বেলাল হোসেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিজয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী বলে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলা নিয়ে নেত্রকোনা-২ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ৪ শত ৩৮ জন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন, জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় জোট থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, জাতীয় পার্টির এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী, জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের বিজয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) কেন্দুয়া-আটপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৩ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৭ জন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী। তার সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, কেন্দুয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র, কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল। এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হচ্ছেন, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মো. খায়রুল কবীর নিয়োগী, জাতীয় পার্টির মো. আবুল হোসেন তালুকদার, ইসলামী আন্দোলনের মো. জাকির হোসেন ও ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মো. শামছুজ্জোহা।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীর ধানের শীসের সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলালের ঘোড়া প্রতীকের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত কার মুখে বিজয়ের হাসি ফুটবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত।

নেত্রকনা-৪ (মদন- মোহনগঞ্জ- খালিয়াজুরী) নেত্রকোণা জেলার হাওরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোণা-৪ আসন। এ আসনটি বিএনপি তথা বাবর এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩ শত ১২ জন। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন, হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল হেলাল তালুকদার। এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হচ্ছেন, ইসলামী আন্দোলনের মো. মুখলেছুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার ও বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির চম্পা রানী সরকার। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সবচেয়ে বেশী ভোট পেয়ে নির্বাচিত হবেন বলে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) জেলার একমাত্র একটি উপজেলা পূর্বধলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৫ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ১ শত ১৭ জন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ভিপি আলহাজ মো. আবু তাহের তালুকদার। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা। এ আসনে অন্য প্রার্থী হচ্ছেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম।

এ আসনে বিএনপি প্রার্থী আলহাজ আবু তাহের তালুকদারের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী মাছুম মোস্তফা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে ভালো ভূমিকা রাখবে বলে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।