০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫০

ছাত্রলীগ নেতা থেকে সমন্বয়ক, এবার জাকসু ভিপি থেকে বিএনপিতে

আবদুর রশিদ জিতু  © টিডিসি সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৫ দিন আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তার সঙ্গে কয়েকটি হল সংসদের প্রতিনিধিও ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। বিএনপিতে তার যোগদানের খবরে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি অনেকেই করছেন সমালোচনা। 

আব্দুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় তার বাড়ি। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম।

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন শুরু হলে ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) ছাড়েন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন। আন্দোলনের আগে তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য। পরে আল-বেরুনী হলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন।

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দশম জাকসু নির্বাচনে ৩ হাজার ৩৩৪টি ভোট পেয়ে 'স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন' প্যানেলের প্রার্থী জিতু ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকি ২৪টি পদের মধ্যে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল 'সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট'-এর প্রার্থীরা ২০টি পদে জয়লাভ করেন। শুরুতে আলোচনা ছিল গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের প্যানেল থেকে জিতু ভিপি পদে নির্বাচন করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। পরে জিতু ১৮ জনকে নিয়ে আলাদা প্যানেলের ঘোষণা দেন। তার প্যানেলে একমাত্র জয়ী প্রার্থী তিনি।

জানা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের আগে জিতু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও আন্দোলনের সময় সর্বপ্রথম ছাত্রলীগের হাতে মার খেয়ে আহত হন। পরবর্তী সময়ে আরিফ সোহেল আটক হলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে ‘ফার্স্ট ম্যান’ হিসেবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগরের আন্দোলন পরিচালনা করেন।

পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামে প্ল্যাটফর্মের সূচনা করেন। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিনি।