০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৬

উপহারগুলোর ভেতর থাকে দরদ আর মমতা, এক বোন নিজ হাতে চুড়ি বানিয়েছে স্ত্রীর জন্য

নাহিদ ইসলাম  © টিডিসি সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১১ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। সেই প্রচারণার পথেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে নানা আবেগঘন মুহূর্তের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রার্থীরা। এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, প্রচারণার সময় রোদে-ধুলোয় ভরা রাজপথে হাঁটার ক্লান্তির মধ্যেও সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা তাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি জানান, এক বোন নিজের হাতে তৈরি করা চুড়ি উপহার দেন, যা কেবল একটি উপহার নয় বরং তাতে ছিল দরদ, মমতা আর বিশ্বাসের গল্প।

নাহিদ ইসলাম জানান, প্রতিদিন ভোরে বের হয়ে সারাদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘোরা তার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। তিনি লিখেছেন, রাতে যখন ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরি, তখন পকেট ঝাড়লে পাওয়া যায় কিছু টাকা, চকলেট, আতর কিংবা নিজ হাতে তৈরি শাপলা কলি। এক বোন আমার স্ত্রীর জন্য নিজের হাতে চুড়ি বানিয়ে দিয়েছেন। এগুলো কেবল উপহার নয়, এগুলো মানুষের ভালোবাসার নীরব দলিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ তাকে নিজের সন্তানের মতো দেখে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়। সাবেক নেতা ওসমান হাদীর প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা ছিল, আজ তার ভাগিদার হিসেবে নিজেকে দেখে আবেগাপ্লুত তিনি।

বাড্ডা-রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার অলিগলিতে মিশে আছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তঝরা স্মৃতির সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ব্র্যাক বা কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সামনে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ, ইস্ট ওয়েস্ট ও ইমপেরিয়াল কলেজের ছাত্রদের সাহসিকতা এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার কথা এলাকাবাসী আজও ভোলেনি। মসজিদের দেয়ালে গুলির চিহ্ন আজও জুলাইয়ের লড়াইয়ের সাক্ষ্য দেয়। অভ্যুত্থানের পর অনেক শহীদ পরিবার রাজনৈতিক হুমকি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

নিজের বেড়ে ওঠার এলাকাকে নতুন করে চিনছেন উল্লেখ করে নাহিদ জানান, এক পিঠা বিক্রেতা খালা তাকে দেখে চিনেছেন এবং তার গুম হওয়ার সময়কার দোয়ার কথা শুনিয়েছেন। ১৯ জুলাই বনশ্রীর বাসার সামনে গোলাগুলি এবং সেই রাতেই তার গুম হওয়ার বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলো তিনি পুনরায় স্মরণ করেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় বেরিয়ে মানুষের অভাব-অভিযোগের দীর্ঘ তালিকার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ট্রাফিক জ্যাম, খেলার মাঠের অভাব থেকে শুরু করে দখলকৃত জমি উদ্ধারের আকুতি—সবই ফুটে উঠছে সাধারণ মানুষের কথায়।

নাহিদ ইসলাম স্বীকার করেন, প্রথম দেখায় অপরিচিতদের সঙ্গে আবেগ প্রকাশে তার কিছুটা আড়ষ্টতা থাকলেও মানুষের প্রতি তার দরদ অপরিসীম। তিনি বলেন, মানুষ বলে ভোটের সময় রাজনীতিবিদরা প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু পরে আর খোঁজ থাকে না। তারপরও মানুষ স্বপ্ন দেখে। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা আর নিজের এলাকাকে নতুন করে চেনাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।