ভোট চোর, ইঞ্জিনিয়ারদের আর কোনো ছাড় নয়: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশে আর কোনো ভোট ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ভোট চোরদের সুযোগ দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জনসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা এখন থেকে দোয়া করতে থাকেন কোনো কালো চিল আসমান থেকে এসে ছো মেরে যেন আমাদের স্বপ্নকে এলোমেলো করে দিতে না পারে। এখন থেকে পাহারা বসাবেন। কোনো ভোট ডাকাত, ভোট চোর, ভোট ইঞ্জিনিয়ার কাউকে আবার কোনো ছাড় নেই। সিনা মজবুত করে, হাত শক্ত করে আমাদেরকে দাঁড়ায় যেতে হবে।’
পুরোনো রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় আছে এবং সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরোনো রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। চোখ মেলে দেখেন জনগণ আপনাদেরকে কীভাবে দেখে। আজকে যুবকদের উত্থান শুরু হয়েছে পরিবর্তনের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। মা-বোনদের উত্থান শুরু হয়েছে পরিবর্তন এবং নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। এই দৃশ্য দেখে অনেকে নার্ভাস।’
প্রতিপক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘মাঘ মাসে যে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে, এরা চৈত্র মাসে কী করবে? ঠান্ডা রাখেন মাথা, ঠান্ডা রাখেন, মাথা গরম করবেন না। রাজনীতি করতে হলে ঠান্ডা মাথায় আসেন। আপনি রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। হেরে যাওয়ার পূর্বাভাস শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জানিয়ে দিয়েছে লাল কার্ড। আগামী ১২ তারিখে হবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড। ফ্যাসিবাদ নতুন না পুরাতন, এটা বিবেচনার ব্যাপার না। ফ্যাসিবাদ তোমাকে লাল কার্ড। তুমি যে পোশাক গায়ে দিয়ে আসো, তোমাকে অবশ্যই লাল কার্ড জানাব।’
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ দুইটা ভোট। একটা হচ্ছে গণভোট। গণভোটে হাঁ মানেই হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ, পুরোনো রাজনীতিকে লাল কার্ড। যেই রাজনীতি মানুষ খুন করে, যেই রাজনীতি আয়নাঘর তৈরি করে, যে রাজনীতি দেশপ্রেমিক নেতাদেরকে খুন করে, যেই রাজনীতি আমার দেশের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করে, যেই রাজনীতি রাজনীতিকদের জন্য ব্যবসার উপাদানে পরিণত হয়, ১২ তারিখ সেই রাজনীতিকে ইনশাআল্লাহ লাল কার্ড। এই জন্য আমরা সবাই গণভোটে হাঁ বলব। ইনশাআল্লাহ হাঁ চিহ্নতে আমরা সিল বসাবো।’
এ সময় তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোট যাদের অতীতেও খাসলত খারাপ ছিল, এখনো যারা লোভ সামলাইতে পারেনি, সেই বিড়ালের হাতে গোশত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিবেন? এরা রাষ্ট্রের জনগণের মান এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা দিবে? এখনই দিচ্ছে না। আফসোস, তারাও মজলুম ছিলেন। কেন যে এখন বদলে গেলেন বুঝতে পারলাম না।’
রাজশাহীর উন্নয়ন ও বন্ধ কলকারখানা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহীর কিছু সমস্যা আছে। সব জায়গায় সমস্যা আছে। যেহেতু ইনসাফ কায়েম নাই, যেহেতু দেশকে নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কমিটমেন্ট নাই, ভিশন নাই। এখানে একটা মেডিকেল কলেজ আছে। বহু পুরানা, যখন আটটা মেডিকেল কলেজ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে তখন এখানে একটা ছিল। সেই মেডিকেল কলেজ এখনো আছে, তার সাথে একটা ডেন্টাল ইউনিট করা হয়েছে। কিন্তু ডেন্টাল কলেজ এখানে স্থাপন করা দরকার, উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এটা ঘুমিয়ে পড়েছে। আমরা ইনশাআল্লাহ আর কয়টা দিন তো সবর করেন। যদি আল্লাহ তায়ালা আপনাদের পছন্দের লোকদেরকেই দেশ সেবার সুযোগ দেন, আল্লাহর মেহেরবানী দাবি করতে হবে না, আমরাই খুঁজে খুঁজে বের করব জাতিকে সেবা দেওয়ার জন্য কোথায় কী দরকার এবং আপনাদের ঘুমন্ত ডেন্টাল কলেজকে ইনশাআল্লাহ টান দিয়ে আমরা জাগিয়ে তুলে দিব।’
রাজশাহী সুগারমিল নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজশাহী সুগারমিল এটা লোকসানি কেন হবে? আমার দেশের মাটিতে আখ ফলে, আমার দেশের শ্রমিক এখানে কাজ করে, তাইলে এটা লোকসানি হবে কেন? চুরি-চামারির কারণে লোকসান। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী তিন বৎসর তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তখন বন্ধ মিল কারখানা সুগারমিল সব তালা একটা একটা করে খুলতে শুরু করেছিলেন এবং এক বছরের মাথায় সেইগুলাকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। চুরি বন্ধ হওয়ার কারণে এটা সম্ভব হয়েছিল। ইনশাআল্লাহ যদি আপনাদের রায়ের প্রতিফলন ঘটে, ১৩ তারিখ থেকে বলা লাগবে না অটোমেটিকালি অনেকের কান এবং নাক খাড়া হয়ে যাবে, বাংলাদেশ নতুন রাস্তা খুঁজে পাবে।’
সমুদ্র সম্পদের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্লু-ইকোনমিতে সমুদ্রে এখনো আমরা সম্পদ আহরণে ঢুকতে পারিনি। আল্লাহ যদি আমাদেরকে তৌফিক দেন কারো চোখ রাঙানির পরোয়া করব না ইনশাআল্লাহ। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের জন্য তুলে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কেরামত আলীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মজিবুর রহমান, রাজশাহী-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী, রাজশাহী-৫ আসনের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান এবং রাজশাহী-৬ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির ডা. মাহমুদা আলম মিতু, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ হোসেনসহ অনেকে।