০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২১

লড়াইটা জুলাইয়ের প্রধান মুখ বনাম ২২ বছরের ওয়ার্ড কমিশনার

ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ-কাইয়ুম হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস  © টিডিসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় রয়েছে ঢাকা-১১ আসনটি। আসনটি আলোচনায় থাকার কারণ জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আসনটিতে নির্বাচন করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকা এম এ কাইয়ুম ও তরুণ নেতা নাহিদ ইসলামের প্রচারণায় জমজমাট রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা। প্রবীণ ও নবীনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে ভোটারদের কথায়। 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২১, ২২ , ২৩ ,৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১,ও ৪২ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা ১১ আসন। এরমধ্যে রয়েছে বাড্ডা থানা এলাকা, রামপুরা থানার টিভি সেন্টার, আফতাবনগর আবাসিক এলাকা, বনশ্রীর একাংশ, মহানগর প্রজেক্ট, মালিবাগ-চৌধুরীপাড়া; ভাটারা থানার নতুন বাজার, বারিধারা সংলগ্ন এলাকা, নুরের চালা ও ছোলমাইদ এলাকা। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন।

ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট বিপ্লব ও গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান মুখ নাহিদ ইসলাম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তিনি। বাড্ডা এলাকার বেরাইদ ইউনিয়ন পৈতৃক নিবাস তার। বর্তমানে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসিন্দা তিনি। ২০২৪ সালে তার নাম টাইম ১০০ নেক্সট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতাও ছিলেন। বর্তমানে তিনি তারুণ্য নির্ভর রাজনৈতিক দল এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন। 

অন্যদিকে এম এ কাইয়ুম রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায় জড়িত। তিনি বর্তমানে বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি তিনি। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তথা ২২ বছর ধরে বাড্ডা এলাকায় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস 

ঢাকা-১১ আসনটি মূলত একটি মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকা। শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক গোষ্ঠীর বাস আসনটিতে। গ্রামীণ ও শহুরে মিশ্র পরিবেশের আসনটিতে যানজট, মাদক, আইনশৃঙ্খলা, জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকটসহ নানান নাগরিক সমস্যা রয়েছে। আসনটি অতীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দখল ছিলো বিগত বছরগুলোতে। ফলে আসনটিতে শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে বিএনপির। এছাড়াও দীর্ঘদিন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় জনসমর্থনও আছে কাইয়ুমের সঙ্গে। তবে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও জুলাইয়ের মুখ হিসেবে ভোটারদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা আছে নাহিদেরও। এছাড়াও জামায়াত ইসলাম ও ১১ দলীয় জোটের দলগুলোও তার জয়ের জন্য কাজ করছে। ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে আসনটিতে। 

তবে আসনটিতে প্রচারণায় এগিয়ে আছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি নিয়মিত জনসংযোগে যুক্ত হচ্ছেন মসজিদ ও বাজারগুলোতে। এছাড়াও তার উঠান বৈঠকগুলোতে উপস্থিতি থাকছে চোখে পড়ার মতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণায় এগিয়ে নাহিদ ইসলাম। মূলত ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে রামপুর থেকে বনশ্রী সহিংসতা ও গুলির ঘটনা ঘটে। ফলে জুলাইয় আন্দোলন যুক্ত হওয়া একটি অংশের মানুষের প্রত্যাশা আছে নাহিদের প্রতি। 

এম এ কাইয়ুম পথসভা ও জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের কাছে নিজের প্রতিশ্রুতি জানাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কমিশনারের দায়িত্ব পালন করায় গ্রহণযোগ্যতা আছে তারও। তবে আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করায় এলাকার মানুষের সাথে তার দূরত্ব তৈরি হলেও তা কাটিয়ে উঠছেন তিনি— এমনটায় মনে করছেন ভোটাররা। 

আসনটিতে অন্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মিজানুর রহমান, মুক্তিজোটের কাজী মো. শহীদুল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি।