০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৮

আট অঙ্গীকারে ইশতেহার প্রকাশ শফিকুল ইসলাম মাসুদের

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান  © টিডিসি ফটো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী–৩ (বাউফল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ইউপি ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আট দফা অঙ্গীকার সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে বাউফল উপজেলাকে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ মডেল উপজেলায় রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাউফল উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লিখিতভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। এসময় জামায়াত জোটভুক্ত ১১ দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহার ঘোষণাকালে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও বাউফলের মৌলিক সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান হয়নি। আজও বাউফল–বগা সেতু না থাকায় ফেরিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থায় জনগণ ভোগান্তিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, পাশাপাশি রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, কর্মসংস্থানের অভাব, কৃষকের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, জেলেদের অনিশ্চিত জীবন, নদীভাঙন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং মাদকের বিস্তার বাউফলের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, এই সংকটগুলো থেকে উত্তরণে ফাঁকা আশ্বাস নয়, প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। আমি বিশ্বাস করি, নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেই বাউফলের পরিবর্তন সম্ভব। আমার রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য।

নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি জানান, বাউফলকে তিনি একটি শিক্ষিত, কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে উন্নয়নের সুফল সবাই পাবে। নির্বাচিত হলে তিনি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন না এবং প্রাপ্ত বেতন-ভাতা জনকল্যাণে ব্যয় করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের ঘোষিত আট অঙ্গীকারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ৬০ দিনের মধ্যে মাদক নির্মূল, ৯০ দিনের মধ্যে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন, বাউফল–বগা সেতুসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাজিরপুর, ধুলিয়া, কেশবপুর, কালাইয়া, কাছিপাড়া ও চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণ করা । এছাড়াও ইশতেহারে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, যুব ও শিশুদের ক্রীড়ামুখী করতে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, দখলকৃত খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় শিল্পকারখানা ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিষয়ে উল্লেখ করেন তিনি।

পাশাপাশি, কাছিপাড়া, কালিশুরি, ধুলিয়া, কেশবপুর, সূর্যমনি, কনকদিয়া, বগা, মদনপুরা, নাজিরপুর, কালাইয়া, দাসপাড়া, বাউফল, আদাবাড়িয়া, নওমালা, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ও বাউফল পৌরসভাসহ মোট ১৫টি এলাকার জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনটি করে অগ্রাধিকার ভিত্তিক পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রথম তিন বছরে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ইশতেহারে আধুনিক পৌরসভা গঠন, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ ও নদীভাঙন সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, প্রবাসী কল্যাণ, গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা, যুব ও নারী উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষক ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন, ক্রীড়া–সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্প বিকাশ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণের মহাপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।